দীপাবলিকে সামনে রেখে হরিদ্বার শহরের আলোকসজ্জা ও পথবাতি ব্যবস্থার উন্নতির কাজ জোরদার করেছে পুরসভা। উৎসবের আগে শহরের প্রধান রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং গঙ্গার ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে হরিদ্বার পুরনিগম। এই কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পুর কমিশনার নন্দন কুমার। পরিদর্শনের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উৎসবের আগেই সমস্ত জরুরি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।
দীপাবলির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হরিদ্বার পুরনিগমের বিশেষ নজর রয়েছে শহরের আলোকব্যবস্থার দিকে। উৎসবের সময় বাজার, প্রধান রাস্তা এবং গঙ্গার ঘাটগুলিতে মানুষের যাতায়াত বাড়ে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যে সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন হয়, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা স্ট্রিট লাইট এবং হাইমাস্ট লাইটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে আলোকিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে সাজসজ্জার জন্য বিশেষ আলো লাগানো হচ্ছে, যাতে দীপাবলির সময় শহরের প্রধান এলাকাগুলি আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে।
পুর কমিশনার নন্দন কুমার গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে চলমান কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। কোন কোন জায়গায় আলোর কাজ শেষ হয়েছে এবং কোথায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে, সে বিষয়ে আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সমস্ত বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
দীপাবলির আলোকসজ্জার পরিকল্পনায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিবমূর্তি থেকে আর্য নগর চৌক পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে থাকা ডিভাইডারে আকর্ষণীয় আলো লাগানোর কাজ চলছে। এর ফলে রাতের বেলায় এই পুরো রাস্তার চেহারায় পরিবর্তন আসবে।
এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তা ও তিন রাস্তার মোড়গুলিতে ডেকোরেটিভ লাইট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুর কমিশনার। শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে আলোর ব্যবস্থা আরও উন্নত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এই রাস্তাগুলি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থীরাও যাতায়াত করেন।
![]()
দীপাবলির সময় বাজারে কেনাকাটা করতে বেরোনো মানুষের সংখ্যাও বাড়ে। সেই কথা মাথায় রেখে রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরনিগমের লক্ষ্য, উৎসবের সাজসজ্জার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় আলোর ব্যবস্থাও উন্নত করা।
হরিদ্বারের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে গঙ্গার ঘাটগুলি। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী গঙ্গা দর্শন ও স্নানের জন্য এই শহরে আসেন। দীপাবলির সময়ও ঘাটগুলিতে আগত মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আলোর ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ চলছে।
পুরনিগমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটগুলিতে স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত আলো থাকলে সন্ধ্যা ও রাতের সময় পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও ঘাটে পৌঁছনো সহজ হবে।
এই কাজের ক্ষেত্রে ঘাটগুলির আলোকসজ্জার ওপর বিশেষ নজর দিতে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরের প্রধান রাস্তাগুলির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিতে আলোর কাজ সম্পূর্ণ করাও পুরনিগমের প্রস্তুতির অন্যতম অংশ।
হরিদ্বার শহরের সামগ্রিক আলোকব্যবস্থার জন্য ২৬,২৫০টি স্ট্রিট লাইট ও হাইমাস্ট লাইট ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পুরনিগম। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে থাকা এই আলো ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিকে আলোকিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে অতিরিক্ত আলোর প্রয়োজন, সেখানে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ চলছে।
পরিদর্শনের সময় পুর কমিশনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাজের গতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করার ওপর জোর দেন তিনি। এই লক্ষ্য পূরণে আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
বর্তমানে দীপাবলির আগেই শহরের প্রধান রাস্তা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং গঙ্গার ঘাটগুলিতে আলোর কাজ সম্পূর্ণ করাই হরিদ্বার পুরনিগমের প্রধান লক্ষ্য। নির্ধারিত প্রস্তুতি শেষ হলে উৎসবের সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে।




