Haryana Gangster: জেল থেকে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাইরে আসার অনুমতি পেলেন এক বন্দি। কারণ, সেই সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠান। হরিয়ানার মৈনপাল ধিল্লার বিয়ে ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর হবু স্ত্রী কম্বোডিয়ার বাসিন্দা এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। বিয়ের জন্য তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে এসেছেন তিনি।

বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল
হরিয়ানার ঝাঝরের বাদলি এলাকার বাসিন্দা মৈনপাল ধিল্লাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ১২ ঘণ্টার জন্য তাঁকে জেল থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলের কাছেই একটি ফার্মহাউসে বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাঁকে ফের জেলে নিয়ে যাওয়া হবে।
হবু স্ত্রী কম্বোডিয়ার বাসিন্দা
মৈনপালের হবু স্ত্রী মেটা চান কম্বোডিয়ার বাসিন্দা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৈনপাল প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে কম্বোডিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে মেটার পরিচয় হয়।পরে দু’জন একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেটা তিন সন্তানকে নিয়ে ভারতে এসেছেন। চতুর্থ সন্তান কম্বোডিয়াতেই রয়েছে।
মৈনপালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
প্রতিবেদনে মৈনপালের বিরুদ্ধে খুন-সহ মোট ২২টি মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।২০০৭ এবং ২০১০ সালে দায়ের হওয়া তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি হিসারের একটি জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। জেলে থাকাকালীনও তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এখানে মামলা ও অভিযোগের তথ্যকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য হিসেবে আলাদা করে দেখা জরুরি।

আগেও প্যারোলে বেরিয়ে পালিয়েছিলেন
মৈনপালকে এর আগে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ছয় সপ্তাহের প্যারোল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্যারোলের সময়ই তিনি জেল থেকে বেরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।তিনি ‘সোনু কুমার’ নামে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিজের পরিচয় বদলে সেখানে ব্যবসাও শুরু করেন।
ইন্টারপোলের রেড নোটিসের উদ্যোগ
মৈনপাল কম্বোডিয়ায় রয়েছেন বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানতে পারে। হরিয়ানা পুলিশের অনুরোধের পর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এরপর কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁকে শনাক্ত করা হয়।
২০২৫ সালে গ্রেফতার, পরে ভারতে প্রত্যর্পণ
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কম্বোডিয়ায় মৈনপালকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়।ভারতে ফিরে তিনি ফের জেলে বন্দি হন। এবার সেই জেল থেকেই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সীমিত সময়ের প্যারোল পেলেন তিনি।

চার সন্তান নিয়েই নতুন অধ্যায়
মৈনপাল ও মেটা চান দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ছিলেন এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে মেটা ভারতে এসেছেন। চতুর্থ সন্তান এখনও কম্বোডিয়ায় রয়েছে।বন্দি অবস্থায় মৈনপালের বিয়ের জন্য এই বিশেষ প্যারোলই এখন আলোচনার অন্যতম কারণ।

হরিয়ানার বাসিন্দা মৈনপাল ধিল্লাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়েছে। কম্বোডিয়া থেকে ভারতে প্রত্যর্পিত এই বন্দির সঙ্গে বিয়ে করতে তাঁর সঙ্গী মেটা চান তিন সন্তানকে নিয়ে ভারতে এসেছেন। তাঁদের চতুর্থ সন্তান কম্বোডিয়াতেই রয়েছে। মৈনপালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।











