ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের মা রূপী সোরেনের মৃত্যু, বৃহস্পতিবার নেমরায় শেষকৃত্য

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের মা রূপী সোরেনের মৃত্যু হয়েছে। মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতার চিকিৎসা চলছিল রাঁচির হিল ভিউ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার রামগড়ের নেমরায় তাঁর শেষকৃত্য হবে।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের মা রূপী সোরেনের বুধবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য রাঁচির হিল ভিউ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার রামগড়ের নেমরায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

রূপী সোরেন কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং রাঁচির হিল ভিউ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। মস্তিষ্ক ও হৃদ্‌যন্ত্র সংক্রান্ত অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখেন। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীসহ ঝাড়খণ্ড সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও অন্যান্য ব্যক্তিরা হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছিলেন।

রূপী সোরেনের শেষকৃত্য বৃহস্পতিবার রামগড় জেলার নেমরায় সম্পন্ন হবে। নেমরা সোরেন পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং সেখানেই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে চিকিৎসার জন্য রূপী সোরেনকে হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর তিনি ঝাড়খণ্ডে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়।

বাড়িতেই চিকিৎসকরা তাঁর পরীক্ষা করেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাঁচির হিল ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি দল নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। বুধবার তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে।

রূপী সোরেনের মৃত্যু সোরেন পরিবারের জন্য আরও একটি ব্যক্তিগত আঘাত। তাঁর স্বামী এবং ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা শিবু সোরেনও গত বছর ৪ আগস্ট মারা যান।

ঝাড়খণ্ডকে পৃথক রাজ্য করার দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে শিবু সোরেনকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর সমর্থক ও রাজনৈতিক সহযোগীরা তাঁকে প্রায়ই ‘দিশোম গুরু’ এবং ‘গুরুজি’ নামে সম্বোধন করতেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের সময় রূপী সোরেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি শিবু সোরেনের সংগ্রাম এবং পরিবারের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।

প্রায় তিন মাস আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের সময় রূপী সোরেন প্রকাশ্যে আলোচনায় এসেছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর প্রয়াত স্বামী শিবু সোরেনের হয়ে মরণোত্তর পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ করেছিলেন।

ঝাড়খণ্ড আন্দোলন এবং জনজীবনে অবদানের জন্য শিবু সোরেনকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণে মরণোত্তর সম্মানিত করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে রূপী সোরেন হুইলচেয়ারে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সামনে পৌঁছেছিলেন। রাষ্ট্রপতি সম্মান জানিয়ে ঝুঁকে তাঁর হাতে পদ্মভূষণ তুলে দেন। ওই আবেগঘন মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি ভবনের সভাকক্ষ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এই দৃশ্য শিবু সোরেনের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের ভূমিকাকেও সামনে এনেছিল।

ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের সময় শিবু সোরেন দীর্ঘদিন রাজ্যের আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম করেছিলেন। জঙ্গল, পাহাড় ও গ্রামাঞ্চলে তাঁর সক্রিয়তা তাঁকে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত করে।

রূপী সোরেন এই পুরো সময়ে পরিবারের সঙ্গে সেই সংগ্রাম কাছ থেকে দেখেছেন। শিবু সোরেনের রাজনৈতিক যাত্রার সময় পরিবারকে একাধিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

পরবর্তীতে হেমন্ত সোরেনও তাঁর বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছান।

রূপী সোরেনের মৃত্যু এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন কিছুদিন আগেই সোরেন পরিবার শিবু সোরেনকে হারিয়েছিল। ফলে তাঁর মৃত্যুও পরিবারের জন্য আরেকটি বড় ক্ষতি হিসেবে সামনে এসেছে।

রূপী সোরেনের মৃত্যুতে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক নেতা এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন। জামশেদপুর পশ্চিমের বিধায়ক সরযূ রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেন, রূপী সোরেন সফল জীবনযাপন করেছেন এবং পরিবার ও তাঁকে ভালোবাসতেন এমন মানুষের জন্য স্মৃতি রেখে গেছেন।

তিনি প্রয়াত আত্মার শান্তি এবং পরিবারকে এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা করেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনও রূপী সোরেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁকে প্রয়াত শিবু সোরেনের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের সময়কার পুরনো ঘটনা ও স্মৃতির কথা স্মরণ করেন।

চম্পাই সোরেন বলেন, রূপী সোরেনের মৃত্যুর খবর তাঁকে ব্যথিত করেছে। তিনি প্রয়াত আত্মার শান্তি এবং পরিবারের সদস্যদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা করেন।

রূপী সোরেনের শেষকৃত্য বৃহস্পতিবার রামগড়ের নেমরায় সম্পন্ন হবে। শেষকৃত্য ঘিরে পরিবার এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নেমরা সোরেন পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক যাত্রার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শিবু সোরেনের রাজনৈতিক জীবন এবং ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এই এলাকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

রূপী সোরেনের মৃত্যুর পর তাঁর শেষ দর্শনের জন্য পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহযোগী, সমর্থক এবং স্থানীয় মানুষের বড় অংশ সেখানে পৌঁছাতে পারেন।

রূপী সোরেনের মৃত্যু সোরেন পরিবারকে গভীর শোকে ফেলেছে। কিছুদিন আগেই পরিবার শিবু সোরেনের মৃত্যুর শোক সামলেছে। এবার তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু পরিবারের জন্য আরও একটি কঠিন সময় তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনে কয়েক মাস আগে যে রূপী সোরেন তাঁর প্রয়াত স্বামীর হয়ে পদ্মভূষণ সম্মান গ্রহণ করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর খবর সেই আবেগঘন অনুষ্ঠানের স্মৃতিকে আবার সামনে এনেছে।

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে সোরেন পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। শিবু সোরেনের হাত ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হেমন্ত সোরেন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে রূপী সোরেনের মৃত্যু পরিবার এবং তাঁর সমর্থকদের জন্যও একটি আবেগঘন ক্ষতি।

বর্তমানে পরিবার নেমরায় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেমরায় অনুষ্ঠেয় শেষকৃত্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Leave a comment