ভারী বৃষ্টিতে পাঠানকোট-জোগিন্দরনগর রেল পরিষেবা ফের বন্ধ, বাতিল চার ট্রেন

হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে কাংড়া উপত্যকার পাঠানকোট-জোগিন্দরনগর ন্যারোগেজ রেল পরিষেবা আবারও বন্ধ করা হয়েছে। পাঠানকোট থেকে চলাচলকারী চারটি নির্ধারিত ট্রেন বাতিল হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে পাঠানকোট-জোগিন্দরনগর রেল পরিষেবা ফের বন্ধ, বাতিল চার ট্রেন
Photo Credit / Attribution: Google

 

হিমাচল প্রদেশে টানা বৃষ্টির কারণে কাংড়া উপত্যকার ঐতিহাসিক ন্যারোগেজ রেল পরিষেবা আবারও বন্ধ করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাঠানকোট-জোগিন্দরনগর রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় স্থগিত করা হয়েছে এবং পাঠানকোট থেকে চলাচলকারী নির্ধারিত চারটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১২ দিন আগেই এই পথে রেল পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছিল।

কাংড়া উপত্যকার রেল পরিষেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ফের শুরু হয়েছিল। ২০২২ সালে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সময় চাক্কি নদীর উপর নির্মিত রেল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক রেলপথে দীর্ঘ সময় পরিষেবা ব্যাহত ছিল। প্রায় চার বছর পর জুন ২০২৬-এ এই পথে যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা ফের শুরু হয়।

৩১ জুলাই প্রায় ১০ দিন স্থগিত থাকার পর পাঠানকোট-জোগিন্দরনগর রেলপথে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছিল। ভারী বৃষ্টির কারণে ২১ জুলাই থেকে পরিষেবা বন্ধ ছিল। পুনরায় চালুর পর এই ঐতিহাসিক রেলপথে যাতায়াত নিয়মিত হওয়ার আশা তৈরি হলেও ফের বৃষ্টির কারণে পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে।

হিমাচল প্রদেশে বৃষ্টির তীব্রতা ফের বাড়ার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রেল চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির সময় রেলপথের পাশে মাটি সরে যাওয়া, ভূমিধস, জল জমে যাওয়া এবং ট্র্যাকের নিচের জমি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচল যাত্রী ও রেলকর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কাংড়া উপত্যকা রেলপথ হিমাচল প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক রেলপথগুলির একটি। পাঠানকোট থেকে জোগিন্দরনগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ন্যারোগেজ লাইন কাংড়া উপত্যকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যুক্ত করে। কাংড়া, পালমপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকাগুলিও এই রেল পরিষেবার আওতায় রয়েছে।

পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় যাত্রীদের উপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এই রেলপথ পর্যটকদের পাশাপাশি ছাত্র, কর্মী, গ্রামবাসী ও ছোট ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয়। চারটি ট্রেন বাতিল হওয়ায় পাঠানকোট থেকে কাংড়া উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে। তাদের বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভর করতে হতে পারে।

পাঠানকোট এই রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক স্টেশন। এখান থেকে ট্রেনে কাংড়া উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছনো যায়। চারটি ট্রেন বাতিল হওয়ায় পাঠানকোট থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ বাড়তে পারে।

বৃষ্টির সময় হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি সড়কপথেও যান চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। ফলে রেল পরিষেবা বন্ধ থাকলে যাত্রীদের বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ সীমিত হতে পারে। সড়কপথে ভূমিধস বা যান চলাচল ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

২০২২ সালে চাক্কি নদীর উপর রেল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই রেলপথের একটি বড় অংশ প্রভাবিত হয়েছিল। পরে রেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অংশে মেরামত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজ করে। জুন ২০২৬-এ পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক লাইনে যাত্রী চলাচল ফের শুরু হয়।

জুলাইয়েও ভারী বৃষ্টির কারণে এই পথে ট্রেন পরিষেবা ১০ দিন বন্ধ ছিল। পরে আবহাওয়ার উন্নতি এবং ট্র্যাক পরীক্ষা করার পর ৩১ জুলাই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ফের পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে।

কাংড়া উপত্যকা রেলপথ পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। পালমপুর, কাংড়া ও আশপাশের এলাকায় আসা পর্যটকরা এই ঐতিহাসিক ট্রেনে যাতায়াত করেন। পাহাড়, উপত্যকা ও গ্রামীণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই রেলযাত্রা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের একটি অংশ। বৃষ্টির সময় ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকলে পর্যটন কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে।

চাক্কি সেতু-সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের পর পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছিল স্থানীয় মানুষ ও পর্যটন ক্ষেত্রে সংযোগ উন্নত করার উদ্দেশ্যে। তবে ফের টানা বৃষ্টির কারণে ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজ। বৃষ্টি থামার পর রেলকর্মী ও ইঞ্জিনিয়াররা প্রভাবিত অংশ পরিদর্শন করতে পারেন। ট্র্যাক, সেতু, কালভার্ট, মাটি ক্ষয় এবং পাহাড়ি ঢালের পরিস্থিতি পরীক্ষা করার পর পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কোনও অংশে ট্র্যাকের পাশের জমি সরে গেলে বা ধসের মাটি জমলে তা সরানোর পর ট্র্যাকের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা হবে। রেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের পরই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা যাবে।

বর্ষাকালে পাহাড়ি রেলপথে ট্র্যাকের পাশে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ঢালের নজরদারি এবং সংবেদনশীল স্থানগুলির নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাংড়া উপত্যকা রেলপথ শুধু পরিবহণের মাধ্যম নয়, হিমাচল প্রদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

বর্তমানে বৃষ্টি ও ট্র্যাকের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চারটি ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং ট্র্যাক নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পর পরিষেবা পুনরায় চালু করা হতে পারে।

Leave a comment