হংকংয়ে হিউম্যানয়েড রোবট ‘শাও গাই’-এর পরিচালনায় চালু হলো মানববিহীন স্টোর

হংকংয়ে ‘শাও গাই’ নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবটের পরিচালনায় ২৪ ঘণ্টার মানববিহীন পপ-আপ স্টোর চালু হয়েছে। গ্রাহক সেবা, পণ্য নির্বাচন এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া পরিচালনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও রোবটভিত্তিক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্যালবট।

হংকংয়ে একটি বিশেষ স্টোর চালু হয়েছে, যেখানে পুরো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে ‘শাও গাই’ নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবট। গ্রাহকদের স্বাগত জানানো, পণ্য বাছাইয়ে সহায়তা করা এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো কাজ একাই পরিচালনা করছে এই রোবট, যা খুচরা বাণিজ্য খাতে অটোমেশন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

হংকংয়ে চালু হওয়া এই স্টোরটি মানুষের মধ্যে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত হওয়া নিজেদের ধরনের প্রথম পোর্টেবল পপ-আপ স্টোর, যেখানে কোনো মানব কর্মীর প্রয়োজন হয় না। স্টোরটি পরিচালনা করছে ‘শাও গাই’ নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবট, যা বেইজিংভিত্তিক গ্যালবট কোম্পানি তৈরি করেছে।

রোবটটি গ্রাহকদের স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে পণ্য নির্বাচন করতে সহায়তা করা এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত একাধিক দায়িত্ব পালন করতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এটিকে খুচরা বাণিজ্য খাতে অটোমেশনের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই রোবট উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এর দীর্ঘ রোবোটিক বাহু শেলফে রাখা পণ্য সাজানো, গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্টোর পরিচালনা-সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ করতে সক্ষম।

হংকংয়ে হিউম্যানয়েড রোবট ‘শাও গাই’-এর পরিচালনায় চালু হলো মানববিহীন স্টোর

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, শাও গাই একাধিক ভাষায় যোগাযোগ করতে পারে এবং গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারে। স্টোরে স্ন্যাকস, দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য এবং কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায়। গ্যালবটের দাবি, এ ধরনের এআই-ভিত্তিক স্টোর প্রচলিত দোকানের তুলনায় বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

রোবট পরিচালিত এই স্টোর আবারও প্রশ্ন তুলেছে, ভবিষ্যতে মেশিন কি মানুষের জায়গা নিতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খরচ কমানো এবং কার্যক্রম আরও দক্ষ করার লক্ষ্যে দ্রুত অটোমেশন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি জাপানের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতেও মালপত্র পরিবহন এবং অন্যান্য কাজে রোবোটিক সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ ধরনের উদাহরণ প্রযুক্তির কারণে আগামী বছরগুলোতে বহু প্রচলিত চাকরি প্রভাবিত হতে পারে কি না, সেই আলোচনা আরও জোরদার করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট ও এআই এখনও পুরোপুরি মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে এআই সিস্টেমের বড় ধরনের ভুলও সামনে এসেছে। কিছুদিন আগে একটি রোবট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে পণ্য ছুড়ে ফেলার একটি ঘটনা আলোচনায় ছিল।

একইভাবে, একটি পরীক্ষায় এআইকে একটি কফি শপ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে ভুল কেনাকাটা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি দেখা যায়। এর ফলে বোঝা যায়, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে উন্নত হলেও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে এখনও সময় লাগবে।

গ্যালবট কোম্পানির লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন শহরে এ ধরনের স্টোর চালু করা। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে বিপুল সংখ্যক রোবটভিত্তিক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

বর্তমানে হংকংয়ের এই রোবট স্টোর প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এটি যেমন সুবিধা ও দক্ষতার একটি নতুন মডেল উপস্থাপন করছে, তেমনি কর্মসংস্থান ও মানব ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আনছে।

 

Leave a comment