IMD Weather Forecast: কলকাতা ছেড়ে শান্তিনিকেতনের কাছে নিম্নচাপ! রাতভর বৃষ্টিতে ভাসল রাস্তা, ৬ জেলায় ফের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

IMD Weather Forecast: কলকাতা থেকে সরে শান্তিনিকেতনের কাছে গভীর নিম্নচাপ। রাতভর বৃষ্টিতে বীরভূমে নদীর জল বাড়ল, ভাসা সেতু বন্ধ। মঙ্গলবার ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা।

কলকাতা থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে এবার শান্তিনিকেতনের কাছে এসে অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপ। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে সেটি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে সরে যাওয়ার কথা। তবে তার আগেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে দুর্যোগ। রাতভর বৃষ্টিতে বীরভূমের একাধিক নদীর জলস্তর বেড়েছে, কোথাও ডুবে গিয়েছে ভাসা সেতু, কোথাও বন্ধ হয়েছে যোগাযোগ।

শান্তিনিকেতনের কাছে শক্তি দেখাচ্ছে নিম্নচাপ

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি এখন কলকাতা থেকে অনেকটাই সরে শান্তিনিকেতনের খুব কাছে অবস্থান করছে। বাঁকুড়ার উত্তর-পূর্ব দিকেও রয়েছে এর প্রভাব। একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের দুমকার কাছাকাছিও অবস্থান করছে সিস্টেমটি।ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে চলে যেতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ না সেটি পুরোপুরি সরে যাচ্ছে, ততক্ষণ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

রাতভর বৃষ্টিতে দুর্যোগ বীরভূমে

নিম্নচাপের প্রভাবে গত রাত থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির দাপট দেখা গিয়েছে।সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বীরভূমের কয়েকটি এলাকায়। টানা বৃষ্টিতে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

হিংলো নদীর ভাসা ব্রিজ জলের তলায়

খয়রাশোল থেকে কেন্দ্রগড়িয়া যাওয়ার পথে হিংলো নদীর উপর থাকা ভাসা ব্রিজটি জলের তোড়ে ডুবে গিয়েছে। নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে থাকায় নিরাপত্তার কারণে ওই সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।অঘটন এড়াতে সেতুর দু'দিকে ব্যারিকেডও দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই পথে যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

১০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় বাড়ল উদ্বেগ

বৃষ্টির পাশাপাশি হিংলো জলাধার থেকেও জল ছাড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাধারের তিনটি গেট খুলে প্রায় ১০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।এর ফলে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

দুবরাজপুরেও বন্ধ যোগাযোগ

একই ছবি দেখা গিয়েছে দুবরাজপুর ব্লকেও। বৃষ্টির জেরে বালিজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজে ও বেলসাড়া গ্রামের সংযোগস্থলে থাকা শাল নদীর ভাসা ব্রিজের উপর জল উঠে গিয়েছে।নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানেও পারাপার বন্ধ। জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা

মঙ্গলবার দিনভর বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।ফলে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে নতুন করে জল জমা ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী ও জলাধার সংলগ্ন এলাকার পরিস্থিতির উপরও নজর রাখা হচ্ছে।

উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া, উত্তাল সমুদ্র

দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতেও স্বস্তি নেই। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।

কলকাতা থেকে সরে গিয়ে বর্তমানে শান্তিনিকেতনের কাছাকাছি অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপ। এর প্রভাবে রাতভর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমের খয়রাশোল ও দুবরাজপুরে নদীর জল বাড়ায় ভাসা সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করতে হয়েছে। হিংলো জলাধার থেকে ১০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় আরও সতর্কতা জারি হয়েছে। মঙ্গলবারও ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।

 

Leave a comment