বর্ষার মরশুম এবার ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে। বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে মৌসুমি বায়ু সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তার প্রভাব বাংলায় একেবারে বৃষ্টিহীন আবহাওয়া তৈরি করবে না। বিহার, সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশ ও অসমে তৈরি ঘূর্ণাবর্তের জেরে কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে আগামী কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই বলেই পূর্বাভাস।
বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে বর্ষা বিদায়ের ইঙ্গিত
বর্ষা বিদায়ের রেখা ক্রমশ দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকাতেও বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দুই রাজ্য থেকেই বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বাংলায় অবশ্য আরও কিছুটা সময় লাগবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের পর্ব শুরু হতে পারে।
নতুন ঘূর্ণাবর্ত, তবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই
বিহার ও সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশ এবং অসম এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বাংলার কিছু অংশে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।তবে এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই বলেই পূর্বাভাস।
দক্ষিণবঙ্গে কোথায় বৃষ্টি হতে পারে?
দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্য কয়েকটি জেলাতেও দু-এক জায়গায় সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কমই থাকবে। আগামী কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কার্যত নেই।
কলকাতায় বৃষ্টি কমলেও অস্বস্তি বাড়বে
কলকাতার ক্ষেত্রে বড়সড় বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে মেঘলা হতে পারে। কোথাও কোথাও দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে।তবে কলকাতাবাসীর অস্বস্তির কারণ হতে পারে বাতাসে বেশি পরিমাণ জলীয়বাষ্প। ফলে বৃষ্টি কমলেও গরম ও ভ্যাপসা ভাব অনুভূত হতে পারে।রবিবারের পর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত রয়েছে।
কলকাতার তাপমাত্রা কত?
শুক্রবারের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৯ ডিগ্রি বেশি। আগের দিন বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৮ ডিগ্রি কম।শহরে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৩ থেকে ৯৬ শতাংশ। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৭ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার কী খবর?
উত্তরবঙ্গেও আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে শনিবার ও রবিবার উপরের দিকের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা সামান্য বাড়তে পারে।দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রবিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংয়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তবে সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা ফের কমতে পারে।
কবে থেকে বাংলায় বর্ষার বিদায়?
বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বাংলায় এখনই পুরোপুরি বর্ষার বিদায় হচ্ছে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অর্থাৎ, আপাতত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কমলেও বাংলার আকাশ পুরোপুরি শুকনো হচ্ছে না। বিচ্ছিন্ন হালকা বৃষ্টি এবং কলকাতায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে।
বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে ধীরে ধীরে বর্ষা বিদায়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাতেও অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্ষা বিদায়ের পর্ব শুরু হতে পারে। আপাতত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও বাড়তে পারে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি।











