ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চস্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়।
নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় দেশ সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাণ এবং জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন কৌশলগত শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতাকে নতুন দিশা দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে একটি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা পরস্পরের দেশে ভ্রমণের সময় কিউআর কোড-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের নগদ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর নির্ভরতা কমানো।
উভয় দেশ ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের একীকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ব্যবস্থার ফলে পর্যটন, বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ে সুবিধা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এর ফলে ভ্রমণ আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।
![]()
দুই দেশ তাদের সহযোগিতাকে বাণিজ্যের বাইরে প্রসারিত করে সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, এবং বিনোদন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ক্ষেত্রে সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। এই সহযোগিতা উভয় দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
উভয় দেশ ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া তাদের ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) আরও শক্তিশালী করার জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই চুক্তিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতাকে স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। উভয় দেশ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকে উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশ জনগণের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে, যা শিক্ষা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করবে।











