ভারতে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে হাজারো ভিডিওতে E20 পেট্রোলকে গাড়ি ও স্কুটারের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এরই মধ্যে E25 পেট্রোল নিয়েও আলোচনা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ২৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E25) নিয়ে চলমান জল্পনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, E25 জ্বালানি বর্তমানে শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি বাজারে আনার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার পরই সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে E20 পেট্রোল নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে কিছু ব্যক্তি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিকে যানবাহনের প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য দায়ী করেছেন। একই সময়ে E25 পেট্রোল চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবর ভোক্তা এবং অটোমোবাইল শিল্পের মধ্যে আলোচনাকে আরও তীব্র করে। তবে সরকারের সর্বশেষ বক্তব্যে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
হরদীপ সিং পুরী জানান, E25 জ্বালানির বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন চলছে। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো ২৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন, যানবাহন এবং জলবায়ুগত পরিস্থিতিতে কীভাবে কার্যকর হয় তা মূল্যায়ন করা। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে E25 কবে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে উপলব্ধ হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
![]()
ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় হরদীপ সিং পুরী বলেন, অতীতে যেসব ক্ষেত্রে মিশ্রিত জ্বালানির কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার দাবি করা হয়েছিল, সেগুলোর তদন্তে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য অন্য কারণ দায়ী ছিল, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নয়।
সরকারের মতে, কোনও নতুন জ্বালানি বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগের আগে তার নিরাপত্তা, গুণমান এবং যানবাহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সম্পর্কে বলেন, ইথানলের ক্যালোরিফিক ভ্যালু প্রচলিত পেট্রোলের তুলনায় কম হওয়ায় গাড়ির মাইলেজে সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রকৃত মাইলেজ শুধুমাত্র জ্বালানির ওপর নির্ভর করে না।
তিনি বলেন, রাস্তার অবস্থা, যানজট, গাড়ির প্রযুক্তিগত অবস্থা, চালানোর ধরন এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ একাধিক বিষয় জ্বালানি দক্ষতাকে প্রভাবিত করে। ফলে মাইলেজের পার্থক্য প্রতিটি যানবাহন এবং ব্যবহারের পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ভারত সরকারের লক্ষ্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে উৎসাহিত করা। সেই লক্ষ্যেই ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনের প্রসারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনে এমন ইঞ্জিন থাকে যা বিভিন্ন অনুপাতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে সক্ষম। সরকারের মতে, ভবিষ্যতে ভোক্তারা তাঁদের প্রয়োজন এবং স্থানীয় প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইথানল, মিথানল অথবা অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।












