ভারত ওডিশার চাঁদিপুর থেকে অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল

ভারত শুক্রবার ওডিশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

ভারত শুক্রবার ওডিশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

চাঁদিপুরে ওডিশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ভারতের মধ্যম পাল্লার পারমাণবিক সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৩ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি সব নির্ধারিত প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করেছে। এই পরীক্ষা ভারতের বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ নীতি এবং দ্বিতীয় আঘাত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।

অগ্নি-৩ একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এই পাল্লার মাধ্যমে এটি দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে কভার করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূরত্ব ভারতের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেয়। এ কারণেই অগ্নি-৩-কে ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অগ্নি-৩-এর পাল্লা পাকিস্তানের প্রায় সব প্রধান শহর এবং সামরিক স্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। চীনের ক্ষেত্রে এটি বেইজিং, সাংহাই এবং অন্যান্য প্রধান শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও, অগ্নি-৩ ভারতের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ বর্তমানে তার কাছে অগ্নি-৩-এর সমমানের সক্ষমতাসম্পন্ন কোনো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্নি-৩-কে বিশ্বের অন্যতম কার্যকর মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষত এর নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে।

অগ্নি-৩ প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা দ্বারা স্বদেশীয়ভাবে উন্নত করা হয়েছে। এটি দুই ধাপের কঠিন জ্বালানি ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস প্রায় ২ মিটার। উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম এবং পেলোড বহনক্ষমতা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম। এতে পারমাণবিক বা প্রচলিত ওয়ারহেড ব্যবহারের বিকল্প রয়েছে এবং এর উড্ডয়ন উচ্চতা সাব-অরবিটাল ট্র্যাজেক্টরিতে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি রোড-মোবাইল ও রেল-মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়, যা দ্রুত মোতায়েন এবং শত্রু নজরদারি এড়ানো সহজ করে। অগ্নি-৩-তে উন্নত ইন্সট্রুমেন্টেশন, নেভিগেশন ও গাইডেন্স সিস্টেম সংযুক্ত রয়েছে। এটি জড়ত্বীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং উন্নত অনবোর্ড কম্পিউটারে সজ্জিত, যা লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করে।

 

Leave a comment