পুজোর সময় ট্রেনে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। ফলে স্টেশন চত্বরে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর প্রয়োজনও বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য মালদা ডিভিশনের স্টেশন মাস্টার ও স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিপিআর থেকে শুরু করে অক্সিজেন ব্যবহারের পদ্ধতি—জরুরি চিকিৎসার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল।
পুজোর ভিড়ে যাত্রী সুরক্ষায় বাড়তি প্রস্তুতি রেলের
উৎসবের মরশুমে রেলস্টেশনগুলিতে যাত্রীদের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময়ে কোনও যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনার কারণে আহত হলে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলকর্মীদের প্রস্তুত রাখার উদ্দেশ্যে মালদা ডিভিশনে তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।মালদা ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট ও স্টেশন মাস্টাররা অংশ নেন। জরুরি অবস্থায় কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, সেই বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সিপিআর ও অক্সিজেন দেওয়ার পদ্ধতি শেখানো হল
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর। কোনও ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে এবং জরুরি সহায়তা শুরু করতে হবে, তা শেখানো হয় প্রশিক্ষণার্থীদের।পাশাপাশি, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফেস মাস্ক এবং ন্যাসাল ক্যানুলার ব্যবহার সম্পর্কেও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শ্বাসকষ্টের মতো পরিস্থিতিতে চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়টিও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
দুর্ঘটনায় আহত হলে কী করতে হবে, তা নিয়েও প্রশিক্ষণ
রেলস্টেশন বা ট্রেনের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলে আহত যাত্রীকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া জরুরি। সেই কথা মাথায় রেখে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা তুলে ধরা হয়।মাথা ও মেরুদণ্ডে আঘাত, হাড় ভাঙা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং চোখে আঘাত লাগার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে কোন ধরনের ভুল এড়িয়ে চলা দরকার, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিন দিনের কর্মসূচি
মালদা ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন। ডিভিশনাল মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাজর্ষি করের উদ্যোগে কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রদর্শনের উপরেও জোর দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে, কখন চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের সচেতন করা হয়।
যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য
মালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মনীশ কুমার গুপ্তার মতে, উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীসমাগমের পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ রেলকর্মীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।রেলের তরফে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রস্তুতি আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
পুজোর মরশুমে রেলস্টেশনগুলিতে বাড়তি যাত্রীসমাগমের কথা মাথায় রেখে যাত্রী সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিল পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশন। তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট ও স্টেশন মাস্টারদের সিপিআর, অক্সিজেন দেওয়া, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। মালদা ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসক পৌঁছনোর আগে যাতে রেলকর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারেন।










