মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে ১৮ বছরের কুণালের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে আইফোন কেনার EMI নিয়ে চাপের বিষয়টি আলোচনায় এলেও, এবার পরিবারের দীর্ঘদিনের অশান্তি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এই পারিবারিক পরিস্থিতিই কুণালের সিদ্ধান্তের সরাসরি কারণ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আইফোনের EMI থেকে শুরু হয়েছিল বিতর্ক
কুণালের মৃত্যুর পর প্রথম থেকেই আইফোন কেনার জন্য নেওয়া EMI এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু ঘটনার তদন্তে এখন পরিবারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কুণাল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তবে সেই চাপের পেছনে ঠিক কোন বিষয় কতটা প্রভাব ফেলেছিল, সে সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বাবা-মায়ের সম্পর্কেও ছিল টানাপোড়েন
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কুণালের বাবা মুরলীধর এবং মা সঙ্গীতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না বলেও জানা যাচ্ছে।প্রায় ছয় বছর আগে অসুস্থতার কারণে তাঁদের বড় ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই সংসারে অশান্তি আরও বাড়ে বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পেশায় গাড়িচালক মুরলীধরও নাকি ধীরে ধীরে পরিবারের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। অনেক সময় তিনি বাড়িতে থাকতেন না এবং আলাদাভাবে থাকতেন।ঘটনার কয়েক দিন আগেই তিনি ফের বাড়িতে ফিরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

২০ বছর আগের ঘটনাও উঠছে আলোচনায়
ঘটনাকে ঘিরে এখন দুই পরিবারের তরফে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে আসছে। মুরলীধরের মা তাঁর পুত্রবধূ সঙ্গীতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তাঁর ছেলেকে পরিবারের থেকে দূরে রেখেছিলেন।অন্যদিকে সঙ্গীতার বোন পল্লবী জহাড় এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, প্রায় ২০ বছর আগে কেন মুরলীধরকে গ্রাম ছেড়ে কৃষিকাজের জন্য চলে যেতে হয়েছিল? সেই সময় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের তরফে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।আগেও একই পাহাড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কুণালঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, শুক্রবারের ঘটনাটি কুণালের প্রথম আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল না। গত বছরও তিনি একই পাহাড়ের চূড়া থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।সেবার পুলিশ তাঁকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বাবা-মায়ের
শুক্রবার কুণালকে ওই পাহাড়ের চূড়া থেকে সরে আসার জন্য পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বারবার অনুরোধ করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টাও করা হয়।কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুণাল তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মুরলীধর প্রায় ২৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মা সঙ্গীতাও নিচে পড়ে যান। কুণাল ও তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই।ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, গোটা এলাকার জন্যই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তে এখন কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ?
কুণালের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন রয়েছে—
আইফোনের EMI-সংক্রান্ত আর্থিক চাপ কতটা প্রভাব ফেলেছিল?
কুণালের মানসিক চাপের প্রকৃত কারণ কী ছিল?
পরিবারের দীর্ঘদিনের অশান্তির কোনও প্রভাব ছিল কি?
আগের আত্মহত্যার চেষ্টার পর কুণালের পরিস্থিতি কী ছিল?
দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সত্যতা কতটা?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্ত এগোলেই স্পষ্ট হবে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে ১৮ বছরের কুণালের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে পরিবারের অশান্তির নানা দিক। আইফোনের EMI-সংক্রান্ত চাপের পাশাপাশি বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পুরনো পারিবারিক বিরোধও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।











