আইটিসি শেয়ারে ১৪% পতন: কর বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ, এখন কী করা উচিত?

নতুন বছরের শুরুতেই আইটিসি শেয়ারে ১৪% পতন! কর বৃদ্ধির জেরে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কি শেয়ার কেনা উচিত? জানুন বিস্তারিত কৌশল।

আইটিসি-র শেয়ারে নতুন বছরের প্রথম দুই দিনে ১৪% পতন হয়েছে। কর বৃদ্ধি এবং আবগারি শুল্কের কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে ছোট বিনিয়োগ করে পুনরুদ্ধারের অপেক্ষা করা ভালো হবে।

ITC Share: আইটিসি (ITC)-এর শেয়ারগুলি নতুন বছরের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ধাক্কা নিয়ে এসেছে। মাত্র দুটি ব্যবসায়িক সেশনে শেয়ার প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। ৪০২ টাকার স্তর থেকে কমে শেয়ারটি ৩৪৫ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই দ্রুত পতন বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগকারীরাও দ্বিধায় আছেন যে এটি কি কেনার সুযোগ নাকি আরও সতর্ক থাকতে হবে।

২ জানুয়ারিতেও আইটিসি-র শেয়ারের উপর চাপ বজায় ছিল। প্রাথমিক লেনদেনে এই শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এফএমসিজি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে এখন কী করা উচিত।

পতনের আসল কারণ কী

১ জানুয়ারিতে আইটিসি-র শেয়ারে প্রায় ১০ শতাংশ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে সরকারের সিদ্ধান্তকে মনে করা হচ্ছে। সরকার ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপর নতুন অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (Additional Excise Duty) এবং নতুন উপকর (cess) আরোপের ঘোষণা করেছে।

এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব আইটিসি-র উপর পড়ে কারণ কোম্পানির সবচেয়ে বড় ব্যবসা সিগারেটের সাথে যুক্ত। আইটিসি-র মোট আয়ের একটি বড় অংশ এখান থেকেই আসে। কর বৃদ্ধির খবর আসার সাথে সাথেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করে এবং পতন গভীর হতে থাকে।

কর বৃদ্ধিতে ব্যবসার উপর কী প্রভাব পড়বে

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্যের উপর কর ইতিমধ্যেই বেশ বেশি। যদি এতে আরও বৃদ্ধি হয়, তাহলে এর প্রভাব কেবল কোম্পানির উপরই নয়, সরকারের রাজস্বের উপরও পড়তে পারে।

স্বাধীন বাজার বিশেষজ্ঞ অম্বরীশ বালিগার মতে, উচ্চ করের কারণে তামাকজাত পণ্যের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে দুটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রথমত, চোরাচালান (Smuggling) বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, বিক্রির পরিমাণ (volume) কমে যেতে পারে।

এই উভয় পরিস্থিতিতেই সরকারের প্রাপ্ত রাজস্ব হ্রাস পেতে পারে এবং কোম্পানির মুনাফার উপরও চাপ পড়তে পারে। এই কারণেই বাজার এই সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছে।

এখন কি আইটিসি-র শেয়ার কেনা উচিত

দ্রুত পতনের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই যে, এটি কি একটি কেনার সুযোগ (Buying Opportunity)? অম্বরীশ বালিগা মনে করেন যে, দুই দিনে এত বড় পতনের পর আইটিসি-র শেয়ার এখন একটি ভালো স্তরে পৌঁছেছে।

তাঁর মতে, মনে হচ্ছে শেয়ারটি আপাতত সর্বনিম্ন স্তরে (Bottom) পৌঁছেছে। যদি বাজারের সেন্টিমেন্ট উন্নত হয় এবং কর সম্পর্কিত উদ্বেগগুলিতে কিছুটা স্বস্তি আসে, তবে আইটিসি-র শেয়ারে পুনরুদ্ধার (recovery) দেখা যেতে পারে।

বালিগা বলেছেন যে পুনরুদ্ধারের সময় এই শেয়ারটি আবার ৪০০ টাকার স্তরের দিকে যেতে পারে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে বিনিয়োগকারীদের তাড়াহুড়ো করে বড় বাজি ধরা এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে আইটিসি-র গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলি

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের দিক থেকেও আইটিসি-র শেয়ার এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আনন্দ রাঠি ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস-এর সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার জিগর এস প্যাটেলের মতে, ৩৫০ টাকার স্তরটি এই শেয়ারের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী সাপোর্ট (Support) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যদি শেয়ারটি এই স্তর বজায় রাখতে সফল হয়, তবে এতে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের আশা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, উপরের দিকে ৩৭৫ টাকার স্তরটি একটি বড় রেজিস্ট্যান্স (Resistance)।

প্যাটেল বলেছেন যে, যতক্ষণ না শেয়ারটি ৩৭৫ টাকার উপরে দৃঢ়ভাবে ওঠে, ততক্ষণ দ্রুত পুনরুদ্ধারের আশা করা তাড়াহুড়ো হবে।

বর্তমান বিনিয়োগকারীদের জন্য কী কৌশল হওয়া উচিত

যে বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই আইটিসি-র শেয়ার ধরে রেখেছেন, তাদের জন্য এটি ধৈর্য ধরার সময়। আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি করলে ক্ষতি নিশ্চিত হতে পারে।

যদি কোনো বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তবে আইটিসি-র মতো একটি শক্তিশালী এফএমসিজি কোম্পানিতে ধরে রাখা একটি বিকল্প হতে পারে। কোম্পানির ব্যবসা শুধু সিগারেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেল, প্যাকেজড ফুড, এগ্রি বিজনেস এবং অন্যান্য এফএমসিজি বিভাগে আইটিসি-র উপস্থিতি রয়েছে।

নতুন বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত

নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত হল, একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার চেয়ে ধাপে ধাপে (Step by Step) বিনিয়োগ করা ভালো হবে। অর্থাৎ, যদি আপনি কিনতে চান, তবে অল্প পরিমাণে (Small Quantity) প্রবেশ করুন এবং পরবর্তী স্তরগুলিতে পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন।

কর সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত এবং বাজারের গতিবিধির উপর নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করার আগে ঝুঁকি (Risk) এবং প্রতিদান (Reward) উভয়ই বোঝা জরুরি।

Leave a comment