বাজারে ঢুকেই যেন নতুন করে হিসেব কষতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান আদা, রসুন ও লঙ্কার দাম এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় জলপাইগুড়ির বহু পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও নিত্যদিনের বাজারের মোট খরচ কমছে না বলেই দাবি ক্রেতাদের।
আদা-রসুনের দামে বাড়ছে ভোগান্তি
জলপাইগুড়ির বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে আদার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১২৫ টাকা এবং রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা কেজি দরে। রান্নার প্রায় প্রতিটি পদেই ব্যবহৃত এই দুই উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ পরিবারের খরচে। পাশাপাশি কাঁচালঙ্কার দামও পৌঁছেছে ৮০ টাকা কেজিতে, যা ক্রেতাদের বাড়তি চিন্তায় ফেলেছে।
আলু-পেঁয়াজে মিলছে খানিকটা স্বস্তি
যেখানে আদা-রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী, সেখানে আলু ও পেঁয়াজ কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ক্রেতাদের। সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ টাকা কেজি দরে, আর পেঁয়াজের দাম রয়েছে ২৬ টাকা কেজির আশপাশে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণেই এই দুই পণ্যের দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মাঝারি দামে মিলছে বেশ কিছু সবজি
বেগুন ও পটলের দাম ৩৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা, করলা ৩৪ টাকা এবং ঢেঁড়স ৪২ টাকা কেজি দরে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামের সবজির দিকে ঝুঁকছেন। অনেকেই বাজার খরচ কমাতে বিকল্প সবজি কেনার চেষ্টা করছেন।
ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম
সবজির পাশাপাশি ফলের বাজারেও দেখা যাচ্ছে দামের চাপ। আমের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি হলেও লিচুর দাম পৌঁছেছে ১৮০ টাকা কেজিতে। মৌসুমি ফলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শাকসবজিতে কিছুটা স্বস্তির হাওয়া
টমেটোর দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে থাকলেও স্কোয়াশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি পালং শাক ও লাল শাকের মতো সবুজ শাক পাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের কাছে এগুলি এখনও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে রয়েছে।
কেন বাড়ছে বাজারদর?
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন, সরবরাহ ব্যবস্থার ওঠানামা এবং মৌসুমি উৎপাদনের তারতম্যের কারণেই বাজারে এই দামের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্ষা শুরু হলে অনেক সবজির সরবরাহে পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে আগামী দিনে দামের আরও হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জলপাইগুড়ির বাজারে সপ্তাহের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে বড়সড় ওঠানামা দেখা গেল। আদা, রসুন ও কাঁচালঙ্কার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলেও আলু, পেঁয়াজ ও কিছু শাকসবজির দামে মিলেছে স্বস্তি। ক্রেতারা বলছেন, কিছু সবজির দাম কমলেও সামগ্রিক বাজার খরচ এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।










