শরতের শেষলগ্নে পুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উত্তরবঙ্গ। তার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ির আকাশে দেখা গেল অন্য ছবি। ভোরের আলো ফুটলেও কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা পড়ে শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও দৃশ্যমানতা কমে যায়, আবার কোথাও কুয়াশার ফাঁকে দেখা মেলে মিঠে রোদের। সকালের এই আবহাওয়ায় অনেকেরই মনে হয়েছে, শীত যেন এবার আগেভাগেই দরজায় কড়া নাড়ছে।
পুজোর মুখে ঘন কুয়াশায় ঢাকল জলপাইগুড়ি
মঙ্গলবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি শহর এবং জেলার বেশ কিছু এলাকায় ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যায়। ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। রাস্তা, বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা অনেকটাই ঢেকে যায় সাদা কুয়াশার চাদরে।বৃষ্টির পর এমন আবহাওয়া দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। অনেকেই সকালবেলার কুয়াশার ছবি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন। কেউ আবার গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে উপভোগ করেন ঠান্ডা-ঠান্ডা পরিবেশ।
বৃষ্টির পরেই আবহাওয়ার বদল
এর আগে কয়েকদিন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা। সেই পরিস্থিতি কিছুটা কাটতেই জলপাইগুড়িতে দেখা যায় কুয়াশার দাপট।ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জনজীবনেও কিছুটা প্রভাব পড়ে। দূরপাল্লার যানবাহনগুলিকেও তুলনামূলক ধীর গতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সতর্ক থাকতে হয় চালকদের।
শীত কি সত্যিই এসে গেল?
সকালের কুয়াশা দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছে, পুজোর আগেই বুঝি শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ভোর ও সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি ঠান্ডার অনুভূতিও মিলছে বলে স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন।তবে শুধু এক-দুদিনের কুয়াশা বা ঠান্ডা অনুভূতির ভিত্তিতে শীতের স্থায়ী আগমন হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন শরতের স্বাভাবিক পরিবেশগত বৈচিত্র্যের অংশও হতে পারে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও ৩৪ ডিগ্রির কাছাকাছি
সকালে কুয়াশার দাপট থাকলেও জলপাইগুড়িতে দিনের তাপমাত্রা এখনও যথেষ্ট বেশি। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে।অর্থাৎ সকালের ঠান্ডা অনুভূতির সঙ্গে দিনের উষ্ণ আবহাওয়ার পার্থক্য এখনও স্পষ্ট। তাই পুজোর আগেই পুরোপুরি শীত নেমে গিয়েছে—এমনটা বলার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।
চায়ের কাপে সকাল উপভোগ জলপাইগুড়িবাসীর
ঘন কুয়াশার সকাল অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে উপভোগের মুহূর্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, বৃষ্টির পর কিছুটা গরম অনুভূতি থাকলেও মঙ্গলবার সকালের কুয়াশা পরিবেশটাই বদলে দিয়েছে।কেউ গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছেন, আবার কেউ কুয়াশায় ঢাকা শহরের ছবি তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ দাস ও আকাশ সাহার বক্তব্যেও উঠে এসেছে সকালের এই ঠান্ডা অনুভূতি উপভোগ করার কথা।
পুজোর আগে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় নজর
দুর্গাপুজোর আগে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টির পর কুয়াশা, সকালের ঠান্ডা অনুভূতি এবং পরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে জলপাইগুড়ির আবহাওয়ায় এখন তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্য।তবে আগামী দিনে কুয়াশা কতটা থাকবে এবং তাপমাত্রার প্রবণতা কী হয়, তার উপরই বোঝা যাবে এই ঠান্ডা অনুভূতি সাময়িক নাকি আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সূচনা।
দুর্গাপুজোর আগে আচমকাই বদলে গেল জলপাইগুড়ির সকালের আবহাওয়া। মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশার চাদর দেখা যায়। বৃষ্টির পর তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তনের মধ্যেই এমন কুয়াশায় শীতের আমেজ অনুভব করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রয়েছে।











