একদিকে হাতির পাল, অন্যদিকে চিতাবাঘ কিংবা বাইসনের আনাগোনা। এমন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই চা চাষ করে সংসার চালান জলপাইগুড়ির বহু ক্ষুদ্র চা চাষি। বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখে তাঁদের হাতে তৈরি সেই বিশেষ চা এবার পৌঁছে গেল দেশের রাজধানীতে। নাম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফ্রেন্ডলি টি’। দিল্লির সাকেতের প্রদর্শনীতে উত্তরবঙ্গের এই অভিনব চায়ের স্বাদ ও গল্প তুলে ধরবেন চাষিরা।
বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থান করেই চাষ
জলপাইগুড়ির গরুমারা ও রামসাই বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় চা চাষিদের জীবন মোটেই সহজ নয়। চা বাগানের আশপাশে প্রায়ই দেখা মেলে হাতি, চিতাবাঘ, গন্ডার কিংবা বাইসনের। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চা উৎপাদন করে চলেছেন ক্ষুদ্র চাষিরা।এই বিশেষ পরিবেশ ও চাষের পদ্ধতির কথা মাথায় রেখেই তাঁদের হাতে তৈরি চায়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফ্রেন্ডলি টি’।
কী এই ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফ্রেন্ডলি টি’?
এটি কোনও একটি নির্দিষ্ট চায়ের জাত নয়। বনাঞ্চল লাগোয়া পরিবেশে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখে ক্ষুদ্র চাষিদের হাতে তৈরি বিশেষ হ্যান্ডমেড চায়ের একটি ব্র্যান্ড ও পরিচিতি হিসেবেই এটি সামনে এসেছে।চাষিদের নিজস্ব দক্ষতায় তৈরি হচ্ছে গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, হোয়াইট টি, ব্লু টি এবং প্রাকৃতিক তুলসী ফ্লেভারের মতো বিভিন্ন ধরনের চা।
দিল্লির প্রদর্শনীতে উত্তরবঙ্গের চা
টি বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সহযোগিতায় আগামী ১৬ ও ১৭ অগস্ট দিল্লির সাকেতের DLF মলে আয়োজিত হচ্ছে ‘হ্যান্ডক্রাফটেড এক্সোটিক হাই-ভ্যালু টি’ প্রদর্শনী।সারা দেশের নির্বাচিত মাত্র ৩০ জন চা চাষির মধ্যে জায়গা পেয়েছেন জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের চাষিরাও। ফলে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের তৈরি পণ্য এবার বড় বাজারের সামনে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
‘তিস্তা’ ব্র্যান্ডে বিক্রি হবে চা
জেলা অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব ‘তিস্তা’ ব্র্যান্ডের ছাতার নিচে দিল্লির প্রদর্শনীতে এই চা প্রদর্শন ও বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, রামসাইয়ের মতো দুর্গম এলাকার চাষি ও মহিলা গোষ্ঠীর তৈরি এই বিশেষ চা ভবিষ্যতে আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের দিকেও নজর
ক্ষুদ্র নারী চা চাষি দীপ্তি রায়ের মতো চাষিদের কাছেও দিল্লির এই প্রদর্শনী বড় সুযোগ। কয়েকজন চাষি মিলে বিশেষ দক্ষতায় তৈরি করেছেন বিভিন্ন ধরনের চা। প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় নতুন ক্রেতা ও বাজার তৈরির আশায় রয়েছেন তাঁরা।উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ সফল হলে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের পণ্য আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে।
গরুমারা ও রামসাই বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকার ক্ষুদ্র চা চাষিদের হাতে তৈরি বিশেষ ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফ্রেন্ডলি টি’ এবার জায়গা করে নিয়েছে দিল্লির আন্তর্জাতিক মানের চা প্রদর্শনীতে। গ্রিন, ব্ল্যাক, হোয়াইট, ব্লু টি থেকে তুলসী ফ্লেভার—বিভিন্ন ধরনের হাতে তৈরি চা নিয়ে রাজধানীতে পাড়ি দিয়েছেন জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের চাষিরা।










