জামাইষষ্ঠী মানেই বাঙালির পারিবারিক আবেগের এক বিশেষ উৎসব। আর সেই উৎসবকে ঘিরেই জলপাইগুড়ির বাজারে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দাম বেড়েছে ফল, মাছ ও মাংসের। তবুও ‘জামাইয়ের জন্য সেরা’—এই ভাবনাতেই বাজার করছেন অধিকাংশ মানুষ।
জামাইষষ্ঠীর আগে জমজমাট জলপাইগুড়ির বাজার
সকাল থেকেই দিনবাজার, করলা নদীর সেতু সংলগ্ন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে। জামাই বরণের জন্য আম, লিচু, কলা, দুধ, মিষ্টি ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে ব্যস্ত গৃহিণীরা। পাশাপাশি ষষ্ঠীপুজোর উপকরণ বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলিতেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়।পুজোর প্যাকেজ ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ হাতপাখা ৩০ টাকা এবং সাজানো হাতপাখা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফলের বাজারে সবচেয়ে বড় চমক লিচুর দাম
জামাইষষ্ঠীর বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ফলের দাম। বিভিন্ন জাতের আমের দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও লিচুর মূল্য কার্যত সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।
বর্তমান ফলের বাজারদর (প্রতি কেজি):
বাংলারা আম: ৫০–৮০ টাকা
হিমসাগর: ৮০ টাকা
ল্যাংড়া: ১০০ টাকা
চৌসা: ১২০ টাকা
লিচু: প্রায় ১০০০ টাকা
আপেল: ২৫০ টাকা
লিচুর অস্বাভাবিক দাম দেখে অনেক ক্রেতাই কেনাকাটা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
সবজির বাজারে স্বস্তি, তবে মসলা জাতীয় পণ্যে বাড়তি চাপ
সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। অধিকাংশ সবজিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে মিলছে। তবে আদা, রসুন ও কাঁচালঙ্কার দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় গৃহস্থের বাজেটে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মাছ ও মাংসের বাজারেও আগুন দাম
জামাই আপ্যায়নের অন্যতম আকর্ষণ মাছ ও মাংস। তাই এই দুই বাজারেও চাহিদা বেড়েছে।
বর্তমান বাজারদর:
রুই ও কাতলা: প্রায় ৩০০ টাকা প্রতি কেজি
ভালো মানের চিতল: ৮০০–১০০০ টাকা প্রতি কেজি
খাসি ও পাঁঠার মাংস: ৯০০–১০০০ টাকা প্রতি কেজি
দাম বাড়লেও ক্রেতাদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি।
জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে জলপাইগুড়ির বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। ফল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে পুজোর সামগ্রী—সবকিছুর চাহিদা বেড়েছে। এর জেরে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ও উৎসবের পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লিচুর দাম কেজিপ্রতি ১০০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবুও জামাই আপ্যায়নে কোনও খামতি রাখতে রাজি নন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।










