জন্মাষ্টমী মানেই বাড়িতে পাকা তালের নানা পদ। তালের বড়া, তালক্ষীর কিংবা তালের মালপোয়ার পাশাপাশি এ বার ভোগের থালায় রাখতে পারেন তালের পাটিসাপটা। সাধারণ পাটিসাপটার মতোই পদ্ধতি, তবে গোলা ও পুরে থাকছে পাকা তালের মিষ্টি স্বাদ। কয়েকটি সহজ উপকরণ মিশিয়ে বানানো এই পিঠে ঠিকমতো গোলা তৈরি করতে পারলেই ননস্টিক প্যান থেকে সহজে উঠে আসবে, আর প্রতিটি পাটিসাপটা হবে নরম ও মোলায়েম।

তালের পাটিসাপটা বানাতে কী কী লাগবে?
তালের পুরের জন্য
দুধ – ১ কাপ
গুঁড়ো দুধ – ¼ কাপ
চালের গুঁড়ো – ২ টেবিল চামচ
তালের পাল্প – ½ কাপ
চিনি – ½ কাপ
নারকেল কোরানো/গুঁড়ো – ½ কাপ
এলাচ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
ঘি – ½ চা চামচ
কিশমিশ – কয়েকটি
নুন – ১ চিমটি
পাটিসাপটার গোলার জন্য
চালের গুঁড়ো – ২ কাপ
ময়দা – ১ কাপ
তালের পাল্প – ½ কাপ
দুধ – ১ কাপ
চিনি – ২ টেবিল চামচ
নুন – ১ চিমটি
প্যান মাখানোর জন্য সামান্য সাদা তেল
প্রথমে তৈরি করুন তালের পাল্প
ভাল পাকা তাল বেছে নিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে পাল্প বের করে নিন। তালের আঁটি চুনজলে ভিজিয়ে রাখলে তিতকুটে ভাব কমতে পারে। পাল্প আলাদা করে রেখে দিন।

এবার বানিয়ে নিন সুস্বাদু তাল-নারকেলের পুর
কড়াইয়ে দুধ ঢেলে তার সঙ্গে গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে নিন। এবার চালের গুঁড়ো, তালের পাল্প, চিনি, এলাচ গুঁড়ো, ঘি এবং এক চিমটি নুন দিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন।
মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে এলে এতে নারকেল ও কয়েকটি কিশমিশ দিয়ে দিন। ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে তলায় লেগে না যায়।
খেয়াল রাখবেন: পুর একেবারে শুকনো করবেন না। আবার বেশি তরলও রাখা যাবে না। এমন ঘনত্ব রাখুন যাতে পাটিসাপটার ভিতরে সহজে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
নরম পাটিসাপটার গোলা তৈরির কৌশল
একটি বড় পাত্রে চালের গুঁড়ো ও ময়দা নিন। এবার তালের পাল্প, দুধ, চিনি এবং এক চিমটি নুন দিয়ে ধীরে ধীরে মেশান।
গোলা যেন খুব ঘন না হয়। প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে আরও দুধ দিয়ে এমন ব্যাটার তৈরি করুন, যা হাতায় তুলে প্যানে ঢাললে সহজেই পাতলা করে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
গোলা তৈরি হয়ে গেলে প্রায় ৩০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এতে চালের গুঁড়ো ভালোভাবে মিশে গিয়ে পাটিসাপটা তুলনামূলক মোলায়েম হতে সাহায্য করবে।
ননস্টিক প্যানে পাটিসাপটা বানানোর পালা
ননস্টিক প্যানটি হালকা গরম করে সামান্য সাদা তেল মাখিয়ে নিন। এবার এক হাতা গোলা প্যানে ঢেলে দ্রুত গোল করে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন।
কম আঁচে প্যানটি ঢেকে প্রায় দেড় মিনিট রান্না করুন। উপরিভাগ সেট হয়ে এলে মাঝখানে তৈরি করে রাখা তাল-নারকেলের পুর দিয়ে দিন।
পুরটা একটু চেপ্টা করে লম্বা করে ছড়িয়ে নিন। এরপর দুই দিক থেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে রোল করে নিন।
পাটিসাপটা পুরোপুরি রোল হয়ে গেলে আলতো করে প্যান থেকে তুলে নিন।
পাটিসাপটা নরম রাখতে এই বিষয়টি মনে রাখুন
গোলা খুব ঘন হলে পাটিসাপটা শক্ত হয়ে যেতে পারে। আবার অত্যধিক পাতলা হলে প্যানে ছড়াতে গিয়ে ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মাঝারি ঘন, মসৃণ গোলা তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।আর পিঠে বানানোর সময় আঁচ অবশ্যই কম রাখুন। বেশি আঁচে রান্না করলে বাইরের অংশ দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে।
দুধ না থাকলে?
দুধের পরিবর্তে জল দিয়েও গোলা তৈরি করা যায়। তবে দুধ ব্যবহার করলে পাটিসাপটার স্বাদ ও মোলায়েমভাব আরও ভালো হয়।
জন্মাষ্টমীর ভোগে একেবারে অন্যরকম স্বাদ
তালের মিষ্টি গন্ধ, নারকেলের পুর আর নরম পাটিসাপটার মেলবন্ধনে তৈরি হবে একেবারে অন্যরকম একটি পিঠে। জন্মাষ্টমীর ভোগের থালায় তালের বড়া বা মালপোয়ার পাশাপাশি এই তালের পাটিসাপটা রাখলে বাড়ির সবাই যে খুশি হবেন, তা বলাই যায়। বানানোও সহজ, আবার দেখতে সুন্দর—তাই উৎসবের মিষ্টিমুখে এটি হতে পারে দারুণ একটি পদ।

জন্মাষ্টমীতে পাকা তাল দিয়ে বানিয়ে ফেলুন একটু অন্যরকম পাটিসাপটা। চালের গুঁড়ো, ময়দা, দুধ ও তালের পাল্পে তৈরি হবে নরম গোলা, আর তাল-নারকেলের সুগন্ধি পুরে জমে যাবে স্বাদ। ননস্টিক প্যানে সহজেই তৈরি করা যায় এই পিঠে।








