রাজস্থানের যোধপুর শহরে কমলা নেহরু নগর এলাকার এলএমজে কার সার্ভিস সেন্টারে বুধবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সার্ভিস সেন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক যানবাহন আগুনের কবলে পড়ে। পরে আগুন পাশের একটি টায়ারের গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুনের শিখা আশপাশের দুটি বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আগুনের সময় সিএনজি চালিত গাড়িগুলিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার জন্য একাধিক পরিবার নিজেদের বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১০টির বেশি যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রতাপ নগর পুলিশ এবং দমকল বিভাগের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শহরের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে অতিরিক্ত দমকলের গাড়ি আনা হয়। বাসনি, শাস্ত্রী নগর, চৌপাসনি এবং নাগৌরি গেট-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট প্রায় ১৬টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। দমকলকর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় একটি অতিরিক্ত দমকলের গাড়ি সতর্কতামূলকভাবে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছিল, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
দমকলকর্মীদের মতে, সার্ভিস সেন্টারে থাকা সিএনজি চালিত গাড়িগুলি আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আগুনের কবলে পড়ার পর একাধিক গাড়িতে জোরালো বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ দূর-দূরান্ত পর্যন্ত শোনা যায় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়।
আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছাতে দমকলকর্মীরা সমস্যার মুখে পড়েন, কারণ সার্ভিস সেন্টারের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ সীমিত ছিল এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের একটি খালি প্লটের দেয়াল ভেঙে দমকলের গাড়ি ও পানির পাইপ সরাসরি আগুনের স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সফলতা মেলে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন গোটা এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা অতিরিক্ত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
আগুনের শিখা সার্ভিস সেন্টারের পিছনে থাকা দুটি বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে দমকলকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়োচিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। দমকল বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাড়িগুলিতে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কারও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সবাই সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে সহায়তা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী বিজয় জানান, রাতে তিনি পোড়া গন্ধ পেয়ে ছাদে উঠে সার্ভিস সেন্টার থেকে উঁচু আগুনের শিখা দেখতে পান। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের সতর্ক করেন এবং দমকল বিভাগকে খবর দেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাগর জানান, আগুন দ্রুত তাঁদের বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল। তিনি আশপাশের যুবকদের ডেকে বালতি ও পাইপের সাহায্যে ধারাবাহিকভাবে পানি ঢালতে শুরু করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় আগুন বাড়িগুলিতে পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনও একটি গাড়িতে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে, যা পরে দ্রুত গোটা সার্ভিস সেন্টারে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকল বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুনের উৎস এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনার পর শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কার সার্ভিস সেন্টারগুলিতে বিপুল সংখ্যক যানবাহন, জ্বালানি, গ্যাস সিলিন্ডার, লুব্রিক্যান্ট এবং অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকে। ফলে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং জরুরি নির্গমন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অগ্নি-সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় স্প্রিঙ্কলার এবং কর্মীদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আগুনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






