ইংরেজি নববর্ষের প্রথম সকালেই ধর্মীয় আবেশে মেতেছে বাংলা। কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে কাকভোর থেকে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। একই ছবি কাশীপুর উদ্যানবাটি ও কামারপুকুরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
ভোররাত থেকেই দক্ষিণেশ্বরে জনস্রোত
প্রতিবছরের মতো এবছরও ১ জানুয়ারি কল্পতরু উৎসবে দক্ষিণেশ্বরে ভক্ত সমাগম নজরকাড়া। ভোররাত থেকেই ফুলের ডালা, প্রসাদের থালা হাতে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। মন্দির চত্বরে ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কাশীপুর উদ্যানবাটি ও কামারপুকুরেও ভক্তদের ভিড়
শুধু দক্ষিণেশ্বর নয়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতিবিজড়িত কাশীপুর উদ্যানবাটি ও কামারপুকুরেও সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পুজো ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
বিশেষ নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন
বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক। সিসিটিভি নজরদারি, ব্যারিকেডিং এবং একমুখী প্রবেশ–নির্গমনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
দিনভর পুজোপাঠ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান
কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর ও কাশীপুরে দিনভর হোম-যজ্ঞ, বিশেষ পুজো ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবন ও বাণী নিয়ে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কল্পতরু উৎসবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভক্তদের দর্শন দেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। বিশ্বাস করা হয়, সেদিন তিনি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন—‘তোদের চৈতন্য হোক’। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিতেই প্রতি বছর এই দিনটি কল্পতরু উৎসব হিসেবে পালিত হয়।
বিশ্বাসে ভর করেই ভক্তসমাগম
ভক্তদের বিশ্বাস, কল্পতরু উৎসবের দিনে মন থেকে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই নতুন বছরের প্রথম দিন ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিতে ভোরে ভোরে মন্দিরমুখো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
নতুন বছরের প্রথম দিনে কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল। কাশীপুর উদ্যানবাটি ও কামারপুকুরেও লম্বা লাইন। বিপুল ভিড় সামাল দিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।












