ঘরে স্বামীর হাতে মার, বাইরে পুরস্কার! মুখের দাগ মেকআপে ঢেকে শুটিংয়ে যেতেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী

জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবি প্রথম দাম্পত্য জীবনে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। মুখের আঘাতের দাগ ঢেকে কীভাবে শুটিংয়ে যেতেন, জানুন তাঁর জীবনের কঠিন কাহিনি।

পর্দায় হাসিমুখে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে একসময় চরম যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল টেলিভিশন অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবিকে। তাঁর দাবি, প্রথম দাম্পত্য জীবনে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যে, বাইরে কাজ করতে যাওয়ার আগে মুখের আঘাতের দাগ মেকআপ দিয়ে ঢাকতে হত। অথচ সেই সময়ই পেশাগত জীবনে পুরস্কারও পাচ্ছিলেন তিনি।

ঘরে স্বামীর হাতে মার, বাইরে পুরস্কার! মুখের দাগ মেকআপে ঢেকে শুটিংয়ে যেতেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী

প্রেম থেকেই বিয়ে, কিন্তু সম্পর্ক ছিল জটিল

কাম্যা জানিয়েছেন, বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। তার আগে প্রায় তিন বছর ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। তবে প্রেমের সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে নিয়মিত মতবিরোধ ও ঝামেলা হতো।পরিবারের তরফ থেকেও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। বাবা-মা বুঝিয়েছিলেন, তাঁরা হয়তো একে অপরের জন্য উপযুক্ত নন। কিন্তু প্রথম প্রেমের আবেগে তখন পরিবারের সেই পরামর্শকে গুরুত্ব দেননি অভিনেত্রী।

সম্পর্ক বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত লড়াই

কাম্যার কথায়, তিনি সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের দিক থেকে সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে যেন নিজের কাছে অন্তত এই আফসোস না থাকে যে তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেননি।কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে দাম্পত্য জীবনের চাপ এবং হিংসা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে শুরু করে।

মুখের আঘাত ঢেকে কাজে যেতে হত

অভিনেত্রীর বয়ানে উঠে এসেছে সেই সময়ের অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা। তিনি জানিয়েছেন, গার্হস্থ্য হিংসার কারণে কখনও মুখে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হলে বাইরে বেরোনোর আগে সেগুলি মেকআপ দিয়ে ঢাকতে হত।একবার পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময়ও নিজের পরিস্থিতি নিয়ে ভীষণ অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল—বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাইরে গিয়ে পুরস্কার নেওয়ার এই জীবন তিনি কেন বেছে নিয়েছিলেন?

ঘরে স্বামীর হাতে মার, বাইরে পুরস্কার! মুখের দাগ মেকআপে ঢেকে শুটিংয়ে যেতেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী

সেটে গিয়েও লুকিয়ে রাখতেন নিজের কষ্ট

শুধু বাড়িতেই নয়, কাজের জায়গাতেও নিজের যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখতেন কাম্যা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক সময় ঘরে নিজেকে আটকে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। কখনও বাথরুমে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।শুটিংয়ে যাওয়ার সময় মুখের দাগ ঢাকতে ভারী মেকআপ করতেন। ভ্যানিটি ভ্যানে একা থাকলে কান্নায় ভেঙে পড়লেও বাইরে বেরিয়ে এমনভাবে থাকতেন যেন জীবনে কোনও সমস্যাই নেই।

মেয়ের সামনে ঝগড়াই বদলে দেয় সিদ্ধান্ত

সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাঁর মেয়ে। একদিন মেয়ের সামনে ঝগড়ার ঘটনা ঘটার পর অভিনেত্রী উপলব্ধি করেন, এই পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।প্রায় ১৩ বছর ধরে চলা সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়। কাম্যার কথায়, সম্পর্কটি বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছিলেন। তাই বিচ্ছেদের পর অন্তত চেষ্টা না করার কোনও অনুশোচনা তাঁর ছিল না।

ঘরে স্বামীর হাতে মার, বাইরে পুরস্কার! মুখের দাগ মেকআপে ঢেকে শুটিংয়ে যেতেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী

নতুন করে জীবন শুরু করেন কাম্যা

কাম্যা পাঞ্জাবি প্রথমে ব্যবসায়ী বান্টি নেগির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘ দাম্পত্যের পর তাঁরা আলাদা হয়ে যান।পরবর্তীতে ২০২০ সালে অভিনেত্রীর জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি শালভ ডাংকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। অতীতের কঠিন অভিজ্ঞতা পেরিয়ে নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর পথ বেছে নেন তিনি।

ঘরে স্বামীর হাতে মার, বাইরে পুরস্কার! মুখের দাগ মেকআপে ঢেকে শুটিংয়ে যেতেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ কাম্যা পাঞ্জাবি তাঁর প্রথম দাম্পত্য জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন। দীর্ঘ সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কীভাবে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়েছিলেন, সেই কঠিন সময়ের কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

Leave a comment