কানপুরের ঘাটমপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টার (CHC)-এ নবজাতক চুরির চেষ্টার ঘটনায় এক আধিকারিকের নাম সামনে আসার পর তদন্তের গুরুত্ব বেড়েছে। অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং এ জন্য হাসপাতালের এক ANM-এর সঙ্গে কথিতভাবে ৫ লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছিল। তবে নবজাতকের মায়ের সন্দেহ ও চিৎকারে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত মহিলা নিজেকে নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী পরিচয় দিয়ে প্রসূতি ও তাঁর নবজাতকের কাছে পৌঁছেছিলেন। হাসপাতালের তদন্তের অজুহাতে তিনি মায়ের কাছ থেকে শিশুটিকে নেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
মহিলার গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় নবজাতকের মা চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে হাসপাতালে থাকা পরিজন ও নিরাপত্তাকর্মীরা সক্রিয় হন এবং মহিলাকে ধরে ফেলেন। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্ত মহিলাকে হেফাজতে নেয়।
মামলায় এখন এক আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে শিশুকে চুরি করানোর জন্য এক ANM-এর সঙ্গে ৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল। পুলিশ কথিত এই চুক্তিতে কারা জড়িত ছিল, অর্থের লেনদেন কীভাবে হওয়ার কথা ছিল এবং শিশুটিকে চুরি করার পর কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পারে।
অভিযোগে আধিকারিকের নাম সামনে আসায় হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও তদন্তের বিষয় তৈরি হয়েছে। তবে আধিকারিক বা ANM-এর ভূমিকা সম্পর্কিত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা পুলিশি তদন্ত ও সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের CCTV ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্ত মহিলা কোন পথে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন, কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং শিশুটিকে নিয়ে কোন দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ঘাটমপুর পুলিশ CCTV ফুটেজ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল।
তদন্তে অভিযুক্ত মহিলার জিজ্ঞাসাবাদ, হাসপাতাল কর্মীদের বক্তব্য এবং কথিত চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, চ্যাট, ব্যাংক লেনদেন বা অন্যান্য আর্থিক রেকর্ডের মাধ্যমে কথিত ৫ লাখ টাকার চুক্তি সম্পর্কিত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে।
ঘটনার পর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জচ্চা-বাচ্চা ওয়ার্ডে এক সন্দেহভাজন মহিলার পৌঁছে যাওয়া এবং নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
হাসপাতালে আসা-যাওয়া করা ব্যক্তিদের নজরদারি, জচ্চা-বাচ্চা ওয়ার্ডে প্রবেশের ব্যবস্থা, কর্মীদের পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা পর্যালোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। হাসপাতালের অন্যান্য প্রসূতির পরিজনরাও নবজাতকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কতা বাড়ানোর দাবি করেছেন।
পুলিশ অভিযুক্ত মহিলাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তিনি কার নির্দেশে হাসপাতালে এসেছিলেন, শিশুটিকে চুরি করার পর কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এবং অন্য কেউ এই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা করা হতে পারে।
পুলিশ একই সঙ্গে তদন্ত করতে পারে, ঘটনাটি কোনো একক ব্যক্তির চেষ্টা ছিল নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে। কথিত ৫ লাখ টাকার চুক্তি এবং হাসপাতালের কর্মীর সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে ঘটনার সঙ্গে আরও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আধিকারিক বা ANM-এর ভূমিকা এবং কথিত চুক্তির বিষয়টি পুলিশি তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও তদন্তের অংশ হবে।
নবজাতকের মায়ের সতর্কতার কারণে শিশুটিকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাটি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের বিষয় তৈরি করেছে।











