বলিউডে এমন বহু সিনেমা রয়েছে, যেগুলি প্রথমে অন্য অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাঁরা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে সেই ছবিই অন্য কারও ভাগ্য বদলে দেয়। ঠিক তেমনই এক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালের সুপারহিট ছবি দিল তো পাগল হ্যায়-এর ক্ষেত্রে। যে চরিত্রটি একাধিক প্রথম সারির অভিনেত্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেটিই করিশ্মা কাপুরকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার এবং বলিউডে এক অনন্য মর্যাদা।
চার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন 'নিশা' চরিত্রটি
যশ চোপড়া পরিচালিত দিল তো পাগল হ্যায় ছবির 'নিশা' চরিত্রের জন্য প্রথমে যোগাযোগ করা হয়েছিল জুহি চাওলা, কাজল, উর্মিলা মাতোন্ডকর এবং মনীষা কৈরালার সঙ্গে। তবে তাঁরা কেউই এই চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হননি।সিনেমা মহলের চর্চা অনুযায়ী, ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাচের দৃশ্য থাকায় অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর সামনে নিজেদের নৃত্য দক্ষতা ম্লান হয়ে যেতে পারে। সেই কারণেই তাঁরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন করিশ্মা কাপুর
একাধিক প্রত্যাখ্যানের পর প্রস্তাব পৌঁছায় করিশ্মা কাপুরের কাছে। তিনি কোনও দ্বিধা না করেই চরিত্রটি গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে করিশ্মা জানান, 'নিশা' চরিত্রটি প্রচলিত নায়িকার ধারণার বাইরে ছিল। চরিত্রটি একতরফা ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং আবেগের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেছিল, যা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
মাধুরীর সঙ্গে নাচ আজও বলিউডের সেরা মুহূর্তগুলির একটি
ছবির অন্যতম আকর্ষণ ছিল করিশ্মা কাপুর ও মাধুরী দীক্ষিতের যুগল নৃত্য। তাঁদের অসাধারণ সমন্বয়, কোরিওগ্রাফি এবং পারফরম্যান্স আজও বলিউডের অন্যতম সেরা ডান্স সিকোয়েন্স হিসেবে আলোচিত হয়। সেই পারফরম্যান্সই করিশ্মার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
জাতীয় পুরস্কার থেকে ফিল্মফেয়ার—সম্মানের ঝুলি ভরে যায়
'নিশা' চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য করিশ্মা কাপুর শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি। যে চরিত্রটি একসময় একাধিক অভিনেত্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত করিশ্মার কেরিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হয়ে ওঠে।
গান, গল্প ও বক্স অফিস—সব ক্ষেত্রেই সুপারহিট
দিল তো পাগল হ্যায় শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, তার গান ও সঙ্গীতের জন্যও আজও সমান জনপ্রিয়। 'দিল তো পাগল হ্যায়', 'ভোলি সি সুরত' এবং 'আরে রে আরে'-র মতো গান এখনও সংগীতপ্রেমীদের প্লেলিস্টে জায়গা করে রেখেছে।প্রায় ৯ কোটি টাকা বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর ভারতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং বিশ্বজুড়ে ৭১ কোটিরও বেশি আয় করে। ১৯৯৭ সালের অন্যতম সফল ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবেও জায়গা করে নেয় ছবিটি।
বলিউডের কালজয়ী ছবি দিল তো পাগল হ্যায়-এর 'নিশা' চরিত্রটি একসময় একের পর এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ ছিল মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে নাচের কঠিন প্রতিযোগিতা। শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রে অভিনয় করেন করিশ্মা কাপুর। আর সেই সিদ্ধান্তই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে বক্স অফিস—সব ক্ষেত্রেই ইতিহাস গড়ে এই সিনেমা।







