কর্নাটকে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে ১৯ নতুন মন্ত্রীর শপথ, একটি পদ এখনও শূন্য

কর্নাটকে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে ১৯ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীসহ মোট ৩৩টি মন্ত্রিপদ পূরণ হয়েছে এবং একটি পদ শূন্য রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কর্নাটকে সোমবার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে ১৯ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। রাজধানী বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রীরা পদ ও গোপনীয়তার শপথ নেন।

এই সম্প্রসারণের ফলে মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্য মন্ত্রিসভার মোট ৩৩টি পদ পূরণ হয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ৩৪ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। ফলে মন্ত্রিসভায় এখনও একটি পদ শূন্য রাখা হয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্ব এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার রাজ্যের রাজনীতির দুই প্রধান মুখ। মন্ত্রিসভা গঠনে উভয় শিবিরের নেতাদের প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে নতুন কয়েকটি মুখকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক অবদান—উভয়কেই গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত এবং আঞ্চলিক স্তরে শক্তিশালী জনভিত্তি থাকা একাধিক নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের সময় নারী বিধায়ক গায়ত্রী শান্তে গৌড়ার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় তাঁর নাম থাকার কথা বলা হলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে শপথ গ্রহণ করানো হয়নি।

সূত্রের মতে, এর পেছনে আইনি কারণ রয়েছে। গায়ত্রী শান্তে গৌড়াকে ঘিরে একটি নির্বাচনী মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল এবং সম্প্রতি আদালতের রায়ের পর তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

তবে আইনি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দলীয় নেতৃত্ব আপাতত তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভায় একটি পদ শূন্য রাখার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সমন্বয় বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে দলীয় নেতৃত্বের কাছে অসন্তুষ্ট নেতাদের সন্তুষ্ট করা অথবা ভবিষ্যতে কৌশলগত নিয়োগের সুযোগ বজায় থাকে।

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে যাঁদের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

শপথ নেওয়া নেতারা হলেন— ড. অজয় সিং, এইচ.সি. বালকৃষ্ণ, কে.এস. বসবন্তাপ্পা, বসবরাজ রায়রেড্ডি, এন. চালুভারায় স্বামী, লক্ষ্মণ সাভাদি, মধু বাঙ্গারাপ্পা, এস.এস. মল্লিকার্জুন, বি. নাগেন্দ্র, নরেন্দ্র স্বামী, সি. পুত্তুরঙ্গাশেট্টি, রুদ্রাপ্পা লামানি, রিজওয়ান আরশাদ, টি. রঘুমূর্তি, সন্তোষ লাড, কে.এম. শিবালিঙ্গে গৌড়া, শিবরাজ তাঙ্গাদাগি, বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানভার এবং বি.জেড. জহির আহমেদ খান।

কর্নাটক দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নত রাজ্য। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন মন্ত্রীরা বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির গতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

 

Leave a comment