কর্নাটক এমএলসি নির্বাচনে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা, সাত আসনের লড়াইয়ে আট প্রার্থী

কর্নাটক বিধান পরিষদের সাতটি আসনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের অভিযোগিত ক্রস-ভোটিং রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং একই দিনে ভোটগণনা ও ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্নাটক বিধান পরিষদের (এমএলসি) সাতটি আসনের নির্বাচনে বুধবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণের সময় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়, যখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক অভিযোগ অনুযায়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেন। ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে এবং নির্বাচনের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিধান পরিষদ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এরপর বিকেল ৫টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে এবং একই দিনে ফলাফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জয়ের জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে ন্যূনতম ২৮টি ভোট পেতে হবে।

নির্বাচনের সময় বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক — এস টি সোমশেখর এবং শিবরাম হেব্বার — অভিযোগ অনুযায়ী কংগ্রেস প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেন। সূত্রের দাবি, এই ক্রস-ভোটিং কংগ্রেসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে সপ্তম আসনে জয়ের কৌশলের ক্ষেত্রে। এ সময় দুই বিধায়ককে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

২২৪ সদস্যের কর্নাটক বিধানসভায় কংগ্রেসের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বর্তমান আসনসংখ্যা নিম্নরূপ:

কংগ্রেসের ১৩৪ জন বিধায়ক রয়েছে। বিজেপির ৬২ জন, জনতা দল (সেক্যুলার)-এর ১৮ জন এবং অন্যান্য দল ও নির্দল মিলিয়ে ৪ জন বিধায়ক রয়েছেন।

এই সংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেস চারটি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপিও দুটি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই সপ্তম আসনকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেস এবং জনতা দল (সেক্যুলার) উভয়ই পৃথক প্রার্থী দিয়েছে, যার ফলে ভোট বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসের প্রার্থীরা হলেন টি. কামকানুর, পি.ভি. মোহন, বি কে হরিপ্রসাদ (রাজ্য সভাপতি), শিবান্না বি.এস. এবং বিনয় কার্তিক প্রকাশ।

বিজেপির প্রার্থীরা হলেন লিঙ্গরাজ পাটিল এবং রঘু আর।

জনতা দল (সেক্যুলার)-এর প্রার্থী হলেন গোবিন্দরাজু।

কর্নাটকে সাম্প্রতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কংগ্রেস সরকার রাজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডি কে শিবকুমারের ভূমিকাকেও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Leave a comment