বিহারের পাটনায় কোচিং সেন্টারকে কেন্দ্র করে চলা বিবাদ এবার পৌঁছে গিয়েছে গুরুতর অভিযোগের পর্যায়ে। ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য প্রকাশ্যে খান স্যারকে দায়ী করেছেন রৌশন স্যার। পাল্টা এখনও সরাসরি কোনও জবাব না দিলেও, খান স্যার এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ফলে ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

কী এই বিতর্কের সূত্রপাত?
পাটনার দুই জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—জ্ঞান বিন্দু জিএস অ্যাকাডেমি এবং খান গ্লোবাল স্টাডিজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। অভিযোগ, কোচিং সেন্টার এবং ক্যাম্পাস ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এরই জেরে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুরের মামলায় রৌশন স্যার ও তাঁর ভাই প্রিন্সের নাম উঠে আসে। পরে রৌশনকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রিন্স নেপালে চলে যান।
জামিনে মুক্তির পর বিস্ফোরক অভিযোগ
জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রৌশন স্যার দাবি করেন, তাঁর ভাই প্রিন্সের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রে খান স্যার ও কিষাণ কোল্ড স্টোরেজের এক মালিকের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন।রৌশনের আরও অভিযোগ, তাঁকে জেলে পাঠানোর পরই তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয় এবং জেলের মধ্যেও তাঁকে ভয় দেখানো ও সমঝোতার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্তের দাবি রৌশনের
রৌশন স্যারের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও খান স্যারকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
খান স্যারের অবস্থান কী?
রৌশনের অভিযোগের বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেননি খান স্যার। তবে আদালতে তিনি জানিয়েছেন, কোচিং সেন্টারে হামলার সময় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন।অন্যদিকে, প্রিন্সের মৃত্যুকে তিনি দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

আরও কী দাবি উঠেছে?
প্রিন্সের বিচ্ছিন্ন ভাই তেজ প্রতাপ যাদবও সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তিনি এই ঘটনার জন্য খান স্যারকে দায়ী করছেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
বিরোধের মূল কারণ কী?
সূত্রের দাবি, পাটনার মুসাল্লাপুর এলাকায় অবস্থিত কিষাণ কোল্ড স্টোরেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ এবং কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই দ্বন্দ্বই সময়ের সঙ্গে আইনি লড়াই ও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

বিহারের কোচিং জগতের দুই পরিচিত শিক্ষক রৌশন আনন্দ (রৌশন স্যার) এবং ফয়জল খান (খান স্যার)-এর দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার আরও তীব্র আকার নিয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রৌশন স্যার দাবি করেছেন, তাঁর ভাই প্রিন্সের মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং সেই ঘটনায় খান স্যার ও আরও এক ব্যক্তির ভূমিকা তদন্ত করা উচিত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং খান স্যারও অভিযোগ অস্বীকার বা বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেননি।








