ভুয়ো পাসপোর্ট কাণ্ড:কলকাতায় ভুয়ো পাসপোর্ট কাণ্ডে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। একবালপুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করার সময় ভুয়ো জন্মসনদ জমা দিয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থা Security Control Organisation (SCO) নথি যাচাই করতে গিয়ে জালিয়াতির সূত্র ধরে ফেলে। এরপরই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে তাকে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

ভুয়ো নথিতে পাসপোর্টের আবেদন, ধরা পড়ল যুবক
৮ অক্টোবর একবালপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাজিদ পাসপোর্টের আবেদন করে। তার জন্মসনদ দেখে সন্দেহ হয় SCO কর্তাদের। কলকাতা পুরসভার সিল থাকলেও যাচাইয়ে জানা যায়, ওই নথি পুরসভার রেকর্ডে নেই। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরি ও প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজত, শুরু তল্লাশি
অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত নিজেই নথিটি বানিয়েছে নাকি কোনও চক্রের সাহায্য নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার শাখা ও ফরেনসিক দলও যুক্ত হয়েছে তদন্তে।
একইদিনে তিন আফগান নাগরিক গ্রেপ্তার
অন্যদিকে ভবানীপুর থানা এলাকায় তিন আফগান নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়েও ভারতে অবস্থান করছিল এবং নকল ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড বানিয়ে নিয়েছিল। ধৃতদের নাম— আবদুল্লাহ খান, সাহেব খান ও জলত খান।

দক্ষিণ কলকাতায় দীর্ঘদিনের বসবাস, জাল নেটওয়ার্ক সক্রিয়
পুলিশ জানিয়েছে, আবদুল্লাহ ১৯৯৫ সালে, সাহেব ২০১৭ সালে ও জলত ২০১৯ সালে ভারতে আসে। তিনজনই দক্ষিণ কলকাতায় ভাড়া বাড়িতে থাকত। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় একটি দালাল চক্রের মাধ্যমেই তারা এই ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়েছে। চক্রটি বিদেশিদের নকল নথি তৈরি করে দিত বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সংস্থাগুলি তৎপর
বিদেশি নাগরিকরা ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করছে — বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রাজ্যের গোয়েন্দা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। তদন্ত চলছে সাজিদ ও আফগান নাগরিকদের মধ্যে কোনও যোগ আছে কি না। পুরসভা ও পাসপোর্ট দপ্তরের কোনও কর্মী এতে জড়িত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভুয়ো জন্মসনদ ব্যবহার করে পাসপোর্ট করাতে গিয়ে ধরা পড়ল এক যুবক। কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সে। তদন্তে উঠে এসেছে, জন্মসনদটি নিজেরাই তৈরি করেছিল অভিযুক্ত। একইদিনে তিন আফগান নাগরিককেও নকল ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমেছে নিরাপত্তা সংস্থা।












