শনিবার কাঁপল কলকাতা: মরশুমের সর্বনিম্নে ১৪.৫°c, উত্তুরে হাওয়ায় জমাট শীতের দাপট

শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এল ১৪.৫°c-এ। বঙ্গোপসাগরে কোনও সিস্টেম না থাকায় অবাধে ঢুকছে উত্তুরে হাওয়া। আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া, বাড়বে শীতের দাপট। সম্পূর্ণ আপডেট পড়ুন।

শনি সকালে ‘পোয়া বারো’, মরশুমের শীতলতম দিন :শনিবার সকালেই শীতপ্রেমীদের মুখে ফুটল হাসি। তিলোত্তমার পারদ থেমে গেল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। কলকাতায় এই মরশুমে এর চেয়ে কম তাপমাত্রা আর দেখা যায়নি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এমন ঠান্ডা নেমে আসায় শহরবাসীর মনে শীতের আগমনী আনন্দ।

রেকর্ড ভাঙার আশায় শীতপ্রেমীরা

২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.২ ডিগ্রি। একই তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছিল ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বরও। সেই রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালে আরও কম ঠান্ডা নেমে আসুক—এই প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন শহরের শীতপ্রেমীরা।শহরের পার্ক স্ট্রিট, আলিপুর, ঢাকুরিয়া, শ্যামবাজার—সব জায়গায়ই সকালের কুয়াশা ও শিশির শীতের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আবহাওয়া দপ্তরের বার্তা: বঙ্গোপসাগরে নেই কোনও সিস্টেম

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের উপরে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্ত নেই। তাই বাধাহীনভাবে দক্ষিণবঙ্গের দিকে নেমে আসছে উত্তুরে শুষ্ক হাওয়া।

ফলে—

দিন ও রাত দুই সময়েই তাপমাত্রা আরও কমবে

আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি নেই

সকালে কুয়াশা ও দুপুরে হালকা রোদ থাকবে

উত্তরবঙ্গেও থাকবে শীতের আমেজ, তবে দিনে ঠান্ডা কিছুটা কমবে

আবহবিদদের মতে, ডিসেম্বরে এমন আবহাওয়া সাধারণত স্থায়ী হয় ৭-১০ দিন।

দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই পারদ পতন

কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া—সব জেলাতেই কমেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।অধিকাংশ জেলায় দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নীচে ঘোরাফেরা করছে।শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের থেকে ১.৪ ডিগ্রি কম)। শনিবার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সকালে সর্বাধিক ৮৩%, দুপুরে কমে ৪০%—যা শুষ্ক হাওয়ার উপস্থিতি স্পষ্ট করে।

পরবর্তী পাঁচ দিন শুষ্ক আবহাওয়া, বাড়বে শীতের দাপট

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে—পরবর্তী পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গের আকাশ থাকবে পরিষ্কার। বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই।শীতের দাপট—

ভোরে বেশি

সকালের দিকে হালকা কুয়াশা

দুপুরে সূর্যের আলোয় কিছুটা ছোঁয়া

সন্ধ্যার পর আবার বাড়তে থাকা ঠান্ডা

উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারেও থাকবে একই আমেজ। পাহাড়ে ঠান্ডা বাড়লেও সমতলে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং শীত কিছুটা কম অনুভূত হবে।

শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে শীতের ছোঁয়া

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কলকাতার রাস্তায় দেখা গিয়েছে—

লাইট জ্যackets

উল শাল

সকালের চায়ের দোকানে ভিড়

কুয়াশা মোড়া রাস্তা

অফিস টাইমে বাস-অটোতে বাড়তি চাপ

শহরের বড়ো বাজারগুলিতেও শীতবস্ত্র কেনাবেচা বেড়েছে। বহু পরিবার সপ্তাহান্তে পিকনিক বা আউটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অঘ্রাণের শেষ লপ্তে তিলোত্তমায় নেমে এল খাঁটি শীতের আমেজ। শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা মরশুমে এ পর্যন্ত সবচেয়ে কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে কোনও সিস্টেম না থাকায় অবাধে ঢুকছে উত্তুরে হাওয়া, তাই বাড়ছে শীতের দাপট।

Leave a comment