ভোরের অন্ধকারে চা বাগানে কাজ করছিলেন শ্রমিক। আচমকাই চোখে শুরু হয় অস্বস্তি। কিন্তু কী হয়েছে, প্রথমে কিছুতেই বুঝতে পারেননি তিনি। পরে সহকর্মী চোখের ভিতরে তাকাতেই চমকে ওঠেন—আটকে রয়েছে একটি জ্যান্ত জোঁক! ডুয়ার্সের নিউ গ্লাস চা বাগানের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কাজের সময় আচমকাই চোখে ঢুকে যায় জোঁক
ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের নিউ গ্লাস চা বাগানে। জানা গিয়েছে, চা শ্রমিক বসন্ত মাহালি ভোরের অন্ধকারে কাজে গিয়েছিলেন।কাজ চলাকালীন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই সময় বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে থাকা একটি বাঁশ সরাতে যান তিনি। সেই কাজের সময় কোনওভাবে একটি ছোট জোঁক তাঁর চোখের ভিতরে ঢুকে যায় বলে জানা গিয়েছে।তবে তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি বসন্ত। চোখে অস্বস্তি হলেও ঠিক কী হয়েছে, তা তাঁর কাছে পরিষ্কার ছিল না।
তিন ঘণ্টা পর চোখের ভিতরে দেখা গেল জ্যান্ত জোঁক
চোখে বারবার অস্বস্তি হচ্ছিল। পাতা খুলতেও সমস্যা হচ্ছিল। চোখের ভিতরে কিছু একটা আটকে রয়েছে বলে অনুভব করছিলেন ওই শ্রমিক।প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক সহকর্মী তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। চোখের ভিতরে একটি জোঁক দেখতে পেয়েই তিনি অন্যদের জানান। এরপর আর দেরি না করে বসন্ত মাহালিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে জোঁক বের হল
বসন্তকে নিয়ে যাওয়া হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পার্থসারথি ভুঁইয়া তাঁর চিকিৎসা করেন।দীর্ঘক্ষণ সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসার পর চোখের ভিতর থেকে জোঁকটি বের করে দেওয়া হয়। চোখের মতো সংবেদনশীল জায়গায় জোঁক আটকে থাকায় সাবধানতার সঙ্গে সেটি অপসারণ করা হয় বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এখন কেমন আছেন শ্রমিক?
চিকিৎসার পর আপাতত বসন্ত মাহালির চোখ স্বাভাবিক রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে চোখে কোনও সমস্যা না থাকায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।বসন্ত নিজেও জানিয়েছেন, কাজের সময় কখন জোঁকটি তাঁর চোখে ঢুকে গিয়েছিল, তা তিনি বুঝতেই পারেননি। চোখে অস্বস্তি এবং পাতা খুলতে না পারার মতো সমস্যা হচ্ছিল।
ঘটনায় সতর্ক চা শ্রমিকরা
চা বাগানের মতো স্যাঁতসেঁতে ও গাছপালায় ঘেরা এলাকায় কাজ করার সময় ছোটখাটো প্রাণী বা পোকামাকড়ের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে চোখের ভিতরে জোঁক ঢুকে যাওয়ার মতো ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে।চোখে কোনও কিছু ঢুকে গেলে নিজে থেকে টেনে বের করার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চোখে অস্বাভাবিক নড়াচড়া, তীব্র অস্বস্তি, রক্তপাত বা দৃষ্টিতে সমস্যা হলে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
ডুয়ার্সের নিউ গ্লাস চা বাগানে কাজ করার সময় এক শ্রমিকের চোখের ভিতরে ঢুকে যায় জ্যান্ত জোঁক। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও চোখে অস্বস্তি ও পাতা খুলতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সহকর্মীরা জোঁকটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাঁকে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জোঁকটি বের করে দেন। চিকিৎসার পর আপাতত তাঁর চোখ স্বাভাবিক রয়েছে।











