সোলান ও শিমলায় আবাসিক এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতি, বাড়ির উঠোন ও জেনারেল স্টোরে পৌঁছাল

হিমাচল প্রদেশের সোলানে বাড়ির উঠোনে এবং শিমলায় একটি জেনারেল স্টোরে চিতাবাঘের পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বন দফতরকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোলান ও শিমলায় আবাসিক এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতি, বাড়ির উঠোন ও জেনারেল স্টোরে পৌঁছাল
Photo Credit / Attribution: Google

হিমাচল প্রদেশের সোলান ও শিমলায় আবাসিক এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতির দুটি ঘটনা সামনে এসেছে। সোলানে একটি বাড়ির উঠোনে দীর্ঘ সময় চিতাবাঘকে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়, আর শিমলায় একটি চিতাবাঘ আবাসিক এলাকার একটি জেনারেল স্টোর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

সোলানে সামনে আসা ভিডিওতে একটি বাড়ির উঠোনে চিতাবাঘকে বসে থাকতে দেখা যায়। বাড়ির আশপাশে মানুষের চলাচল থাকলেও কিছু সময় চিতাবাঘটি সেখানেই ছিল। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তার গতিবিধি রেকর্ড করেন।

চিতাবাঘটিকে উঠোনে দেখতে পেয়ে আশপাশের মানুষ একে অপরকে সতর্ক করেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন এবং চিতাবাঘটির কাছে যাওয়া বা তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করেননি। বন দফতরকেও বিষয়টি জানানো হয়।

ঘটনার পর বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিতাবাঘটিকে তাড়াতে পাথর ছোড়া বা শব্দ করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

শিমলাতেও আবাসিক এলাকায় একটি চিতাবাঘের পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। জানা গেছে, চিতাবাঘটি একটি জেনারেল স্টোর পর্যন্ত চলে যায়। দোকান ও আশপাশে থাকা মানুষ চিতাবাঘটিকে দেখতে পেলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের মানুষ বাড়ির ভিতরে চলে যান। স্থানীয়রা শিশুদের বাইরে বের হতে দেননি এবং চিতাবাঘটির গতিবিধির দিকে নজর রাখেন। পরে বন দফতরকে খবর দেওয়া হয়। চিতাবাঘের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর স্থানীয়রা আশপাশের রাস্তায় চলাচলও কমিয়ে দেন। এলাকায় বন দফতরের দল নজরদারি চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

সোলান ও আশপাশের এলাকায় পাহাড়ি ও বনাঞ্চল রয়েছে। বনাঞ্চলের কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় অনেক সময় খাদ্য ও জলের সন্ধানে বন্যপ্রাণী জনবসতির দিকে চলে আসে। চিতাবাঘ সাধারণত রাতে বেশি সক্রিয় থাকায় এ ধরনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবাসিক এলাকায় চিতাবাঘের চলাচল আগের তুলনায় বেড়েছে। তাঁরা বন দফতরের কাছে নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় বন ও জনবসতির মধ্যে দূরত্ব কম হওয়ায় মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাতের ঘটনা সামনে আসে। বনে খাদ্য বা জলের প্রাপ্যতা কমে গেলে বন্যপ্রাণী জনবসতির দিকে আসতে পারে। এছাড়া আবর্জনা ও খোলা জায়গায় ফেলে রাখা খাবারও অনেক সময় বন্যপ্রাণীকে আবাসিক এলাকার দিকে আকৃষ্ট করে।

চিতাবাঘ সাধারণত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। তবে সে নিজেকে বিপদের মধ্যে মনে করলে বা ঘিরে ফেলা হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা চিতাবাঘের মুখোমুখি হলে তার পিছু নেওয়া, তাকে ঘিরে ফেলা বা ভিড় জমানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

বন দফতরের পক্ষ থেকে রাতে একা নির্জন পথে চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলো রাখার পাশাপাশি পোষা প্রাণীকে খোলা জায়গায় না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। শিশুদের একা বাইরে না পাঠানোর বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

কেউ চিতাবাঘ দেখতে পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বন দফতর বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। ছবি বা ভিডিও করার জন্য চিতাবাঘের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোলান ও শিমলার ঘটনা ছাড়াও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি জেলার বনসংলগ্ন গ্রাম ও শহরে সময় সময় চিতাবাঘ দেখা যায়। এ ধরনের ঘটনায় বন দফতরকে জানিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদভাবে জঙ্গলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বা প্রয়োজন হলে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বাড়তে পারে। তবে চিতাবাঘের উপস্থিতি প্রতিবার আক্রমণের অর্থ নয়। নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে এমন এলাকাগুলি চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন, যেখানে বারবার চিতাবাঘের গতিবিধি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপ, টহল এবং সচেতনতা অভিযান বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।

বর্তমানে সোলান ও শিমলার দুই ঘটনার পর স্থানীয়রা সতর্ক রয়েছেন। সোলানে বাড়ির উঠোনে চিতাবাঘের বিশ্রাম নেওয়ার ভিডিওটি মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, আর শিমলায় জেনারেল স্টোর পর্যন্ত চিতাবাঘ পৌঁছে যাওয়ার ঘটনায় আশপাশের দোকানদার ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

চিতাবাঘ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে ভিড় না করা এবং তাকে ধরার বা তাড়ানোর চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন দফতরকে খবর দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ দেওয়াকেই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a comment