লখনউর আলিগঞ্জ সেক্টর-ডি এলাকার একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে, যা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য অবহেলার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে এসআইটি ভবনটির বিস্তারিত পরিদর্শন করবে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্তের সময় ভবনের কাঠামো, অগ্নি-নিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং জরুরি নির্গমন ব্যবস্থাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
এসআইটির প্রস্তুত করা প্রতিবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এলডিএ) পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ভবন নির্মাণ-সংক্রান্ত নথি, অনুমোদিত নকশা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়গুলো পরীক্ষা করবে। ভবনে পরিচালিত কার্যক্রম নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
![]()
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল ভবনে আগুন লাগার পর মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না তা যাচাই করবে। পাশাপাশি অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না তাও পরীক্ষা করা হবে। কোনো পর্যায়ে অবহেলা বা নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সোমবারের এই অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি পোষ্য কুকুর ও বিড়ালও প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার পর গভীর রাত পর্যন্ত ময়নাতদন্ত কেন্দ্র ও ঘটনাস্থলে নিহতদের স্বজন এবং স্থানীয় মানুষের ভিড় ছিল।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা শহরের অন্যান্য এলাকায় পরিচালিত নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও তদন্তের দাবি করেছেন। তাদের মতে, কোচিং সেন্টার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুতল ভবনগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা পরিচালনা করা উচিত।
ঘটনার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও দমকল বিভাগের দল মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।












