লখনউয়ে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী-সহ তিনজন গ্রেপ্তার, খীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ইট দিয়ে হামলার দাবি

লখনউয়ের গোসাইগঞ্জে রামতীরথ রাওয়াত হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, খীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর ইট দিয়ে হামলা করে হত্যা এবং দেহ বস্তায় ভরে স্কুটিতে করে সিকন্দরপুর মাইনরে ফেলে দেওয়া হয়।
লখনউয়ে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী-সহ তিনজন গ্রেপ্তার, খীরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ইট দিয়ে হামলার দাবি
Photo Credit / Attribution: Google

লখনউয়ের গোসাইগঞ্জ এলাকায় রামতীরথ রাওয়াত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ স্ত্রী-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, রামতীরথকে খীরের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর দেহটি বস্তায় ভরে স্কুটিতে করে বারাবাঁকীর সতরিখ এলাকার সিকন্দরপুর মাইনরে ফেলে দেওয়া হয়।

মৃতের পরিচয় গোসাইগঞ্জ থানার মীসা গ্রামের বাসিন্দা রামতীরথ রাওয়াত হিসেবে জানা গেছে। ৫ জুলাই সতরিখ থানা এলাকার সিকন্দরপুর মাইনর থেকে পুলিশ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে। তদন্তের পর দেহটির পরিচয় রামতীরথ হিসেবে নিশ্চিত হয়।

এরপর মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যার মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে মৃতের পরিচয় ও হত্যার কারণ নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল। পুলিশ মৃতের পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ম্যানুয়াল ইন্টেলিজেন্স ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, ঘটনার আগে রামতীরথের স্ত্রী রামদুলারি তাঁর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলেন। খীর খাওয়ার পর রামতীরথ গভীর ঘুমে চলে গেলে তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর হামলা করে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের মতে, ইট দিয়ে রামতীরথের মুখে একাধিকবার আঘাত করা হয়। পরে তাঁর দেহ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়।

হত্যার পর অভিযুক্তরা দেহটি একটি বস্তায় রাখে। এরপর মৃতের স্কুটি ব্যবহার করে দেহটি নিয়ে গিয়ে সিকন্দরপুর মাইনরে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে পুলিশ মৃতের স্ত্রী ছাড়াও তাঁর আত্মীয়দের ভূমিকা খতিয়ে দেখে। পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী রামদুলারি, চাচাতো ভাই সরফজিত এবং সহোদর ভাই অবধেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের দেখানো জায়গা থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ইটের টুকরো, রক্তমাখা স্টোল, বালিশ, প্লাস্টিকের বস্তা এবং ঘটনায় ব্যবহৃত স্কুটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রী তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে রাখা হয়েছে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রমের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণের মিল খতিয়ে দেখছে। হত্যার আগে মৃত ও অভিযুক্তদের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা ছিল কি না, সে বিষয়েও পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেডিক্যাল ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টের মাধ্যমে মৃতের শরীরে কী ধরনের আঘাত ছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব তথ্য অভিযুক্তদের বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

ইট দিয়ে আঘাত করার অভিযোগের পর উদ্ধার হওয়া ইটের টুকরোও তদন্তে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রক্তমাখা কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীও ঘটনাক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। হত্যার পরিকল্পনা কখন করা হয়েছিল, কারা এতে যুক্ত ছিল এবং হত্যার পর দেহ কীভাবে মাইনর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশের তদন্তে হত্যার পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুলিশি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে।

Leave a comment