মধ্যপ্রদেশে ২৭% ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি কংগ্রেসের

মধ্যপ্রদেশে ওবিসিদের ২৭ শতাংশ সংরক্ষণকে অসাংবিধানিক ঘোষণার জবলপুর হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে রাজ্যজুড়ে জনসচেতনতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে দলটি।

মধ্যপ্রদেশে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ পুনর্বহালের দাবিতে আইনি ও রাজনৈতিক, উভয় ক্ষেত্রেই পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। জবলপুর হাইকোর্টের রায়কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলির সহযোগিতায় রাজ্যজুড়ে জনসচেতনতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে দলটি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পটওয়ারির নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

মধ্যপ্রদেশে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জনসমর্থন গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। ২৭ শতাংশ সংরক্ষণকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ১৪ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া জবলপুর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের একটি অভিন্ন মঞ্চে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরাসরি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিবর্তে অনগ্রসর শ্রেণির সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস।

দলের কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হল সংরক্ষণের প্রশ্নে ওবিসি সংগঠনগুলিকে এক মঞ্চে আনা। একই সঙ্গে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির মধ্যে কোনও একটি সামাজিক শ্রেণির প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাতের বার্তা যাতে না যায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পটওয়ারি এই অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন। সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আলোচনা ও জনসমর্থন গড়ে তোলার জন্য দলের প্রবীণ নেতাদেরও পৃথক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ওবিসি সংগঠন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে নিমাড়, বিন্ধ্য এবং গোয়ালিয়র-চম্বল অঞ্চলে দলের প্রবীণ নেতাদের সক্রিয় করার পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস।

নিমাড় অঞ্চলে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অরুণ যাদব এবং সচিন যাদবকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিন্ধ্য অঞ্চলে প্রাক্তন মন্ত্রী কমলেশ্বর পটেল ও সিদ্ধার্থ কুশওয়াহা সক্রিয় থাকবেন। গোয়ালিয়র-চম্বল অঞ্চলে রাজ্যসভার সদস্য অশোক সিংয়ের সঙ্গে দিনেশ গুর্জর ও লাখন যাদবকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এই অভিযানের মাধ্যমে সামাজিক সংগঠনগুলিকে অভিন্ন মঞ্চে এনে সংরক্ষণের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তুলতে চায় দলটি। কংগ্রেসের লক্ষ্য, বিষয়টিকে শুধু আইনি পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যজুড়ে আলোচনার পরিসর বাড়ানো।

মধ্যপ্রদেশে ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন কমল নাথ সরকার। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই বৃদ্ধি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে সিদ্ধান্তটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একাধিক আবেদন দায়ের হয়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছিল। সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলির একসঙ্গে শুনানির নির্দেশ দেয়।

আইনি বিরোধের কারণে ২৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

জবলপুর হাইকোর্টের বিচারপতি আনন্দ পাঠক ও বিচারপতি বিনয় সরাফের বেঞ্চ ওবিসি সংরক্ষণের হার বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংরক্ষণের এই বৃদ্ধি ন্যায্য প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল না।

রায় অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৪ শতাংশই থাকবে।

রায়ের পর কংগ্রেস এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পরবর্তী আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। কয়েকটি সংগঠন এই মামলায় সরকারের আইনি সওয়াল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

সংরক্ষণ নিয়ে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সমীকরণের দিকেও নজর রাখছে কংগ্রেস। ওবিসি সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা বাড়িয়ে এই ইস্যুতে সমর্থন সংগ্রহ করতে চায় দলটি। একই সঙ্গে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির মধ্যে সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাবিত চ্যালেঞ্জ এবং কংগ্রেসের জনসচেতনতা অভিযান পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বৈঠক, সামাজিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা এবং জনসমর্থন সংগ্রহের উদ্যোগের মাধ্যমে সংরক্ষণের এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে কতটা সমর্থন পাওয়া যায়, তা স্পষ্ট হবে।

Leave a comment