মালদায় গঙ্গার ভাঙন রুখতে ৩৭০০ কোটির মেগা পরিকল্পনা! IIT কানপুরের পরামর্শে মজবুত হবে বাঁধ, পুনর্বাসন পাবেন ক্ষতিগ্রস্তরা

মালদায় গঙ্গাভাঙন রুখতে প্রায় ৩৭০০ কোটির পরিকল্পনা। IIT কানপুরের পরামর্শে DPR, ভুতনি ও রতুয়ার বাঁধ সংস্কার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ জানুন।

বারবার গঙ্গার ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটে মালদার বহু মানুষের। বিশেষ করে ভুতনি ও রতুয়া এলাকায় নদীভাঙনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এবার সেই বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য, পুনর্বাসন এবং কৃষিকাজে সহায়তার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি হবে DPR

মালদায় গঙ্গার ভাঙন রুখতে এবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কীভাবে বাঁধ তৈরি ও মজবুত করলে ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা কমানো যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ করবেন।এরপর তৈরি করা হবে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা DPR। সেই রিপোর্টে কাজের পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। রিপোর্ট তৈরির পরই মূল কাজের সময়সীমা ও পদ্ধতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ভুতনি ও রতুয়ায় বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা

গঙ্গার ভাঙনে মালদার ভুতনি এলাকায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিপর্যয় আরও বেড়েছে।এছাড়া ভুতনিতে প্রায় ২,০০০ মিটার এবং রতুয়ায় প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিং বাঁধও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য, ভবিষ্যতে নদীর জলস্তর বাড়লে বা ভাঙন দেখা দিলে যাতে একইভাবে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।এই কাজের জন্য কানপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

গঙ্গাভাঙন রুখতে ৩,৭০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা

মালদায় নদীভাঙন মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দ মিলিয়ে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকার কাজের পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। এই বিপুল অর্থে কী কী প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এবং কোন কাজ কতটা অগ্রাধিকার পাবে, তা বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে স্পষ্ট হবে।দীর্ঘমেয়াদে বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পের নির্দিষ্ট কাজ, অর্থ বরাদ্দের বিভাজন ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য জানা জরুরি।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের উদ্যোগ

শুধু বাঁধ মেরামত নয়, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের তুলনামূলক উঁচু নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে জমি ও পাকা বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে পুনর্বাসনের স্থান, যোগ্যতার শর্ত এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকার অপেক্ষা করতে হবে।

সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য কত টাকা?

মালদার মানিকচকের মথুরাপুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৯০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও পুজোর উপহারও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মালদার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের কথা জানানো হয়েছে।

কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও মৎস্যচাষে সহায়তা

নদীভাঙন ও বন্যার প্রভাব শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু কৃষকের চাষাবাদও ব্যাহত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি, উদ্যানপালন ও মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।যেসব কৃষক ধান চাষ করতে পারেননি, তাঁদের কলাই, সরিষা ও গমের বিনামূল্যে বীজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিরা নতুন করে জীবিকা গড়ে তোলার সুযোগ পেতে পারেন।

গঙ্গার ভাঙনে বিপর্যস্ত মালদার বাসিন্দাদের জন্য বড়সড় উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি হবে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা DPR। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ভুতনি ও রতুয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং শক্তিশালী করার কাজ এগোবে। পাশাপাশি প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তার কথাও জানানো হয়েছে।

Leave a comment