নয়াদিল্লির তীব্র শীতের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। SIR ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।
বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে আসার কারণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কমিশনের তরফে তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, “আমাদের অপমান করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি।” এই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
‘নির্বাচন বয়কট নয়, লড়াই করব’—মমতার স্পষ্ট বার্তা
কমিশনের দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই নির্বাচন বয়কট করবেন না। তাঁর কথায়, “আমি লড়ে নেব। চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু লোকতন্ত্রের ক্ষতি হলে চুপ করে থাকব
ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের নাম ‘মিসম্যাচ’ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, হরিয়ানা, বিহার ও মহারাষ্ট্রে একই কৌশল প্রয়োগ করে নির্বাচন জেতা হয়েছে। বাংলাতেও সেই মডেল চালু করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মমতার অভিযোগ, নির্বাচনী রাজ্যগুলিতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে SIR চালানো হচ্ছে। অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই প্রক্রিয়া হয়নি, অথচ পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত বলেই দাবি করেন তিনি।
AI ব্যবহারে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
আরও এক ধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিশেষ কিছু পদবি বা নাম টার্গেট করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও দাবি তাঁর।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে এসে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানালেন—নির্বাচন বয়কট নয়, রাজনৈতিক লড়াইই হবে তাঁর জবাব।












