সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও মুখোমুখি কেন্দ্র ও রাজ্য। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার পর এবার ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে জনসভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের আগে এই সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মোদীর সভার এক সপ্তাহের মধ্যেই মমতার সফর
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভা থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর বক্তব্যের প্রত্যুত্তর দিতেই সিঙ্গুরকেই বেছে নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মোদীর কটাক্ষ, বিনিয়োগ বার্তা ও ‘জঙ্গলরাজ’ মন্তব্য
গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে দুটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি মঞ্চ থেকে বন্দে ভারত ও অমৃত ভারত এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেনের উদ্বোধন এবং প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। পরে জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে ‘মহা-জঙ্গলরাজ’ বলে আক্রমণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে বিনিয়োগ না আসার অভিযোগ তোলেন। যদিও টাটা প্রসঙ্গ বা শিল্প ফেরানোর বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি।
২৮ জানুয়ারির সভা থেকে পাল্টা বার্তার সম্ভাবনা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সভা থেকে মোদীর সমস্ত অভিযোগের জবাব দিতে পারেন। একই সঙ্গে সিঙ্গুরের মাটি থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগের পক্ষে বার্তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজ্য সরকারের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরাই হতে পারে এই সভার অন্যতম লক্ষ্য।
সিঙ্গুরে তৃণমূলের প্রস্তুতি শুরু
মমতার সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। হুগলি জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, রতনপুরের মাঠে এই জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। যদিও সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও নির্দেশ তাঁদের হাতে আসেনি। একই কথা বলেন হুগলি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অরিন্দম গুঁইনও।
বিজেপির কটাক্ষ—‘সিঙ্গুর মনে পড়ল মোদীর পরেই’
মমতার সভা ঘোষণাকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। হুগলি সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তুষার মজুমদার বলেন, “এতদিন সিঙ্গুরের কথা মনে পড়েনি। প্রধানমন্ত্রী সভা করতেই হঠাৎ তৃণমূলের সিঙ্গুর মনে পড়ে গেল। বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে বলেই এই তৎপরতা।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুর সফরের এক সপ্তাহের মধ্যেই একই ময়দানে সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ জানুয়ারির এই জনসভা থেকে কেন্দ্রের আক্রমণের পাল্টা জবাবের পাশাপাশি একাধিক রাজ্য সরকারি প্রকল্প ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।





