কলেজে আসন রয়েছে ৩৩১৫টি, আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৯ হাজার। অথচ এখনও পর্যন্ত ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৪০০ জনের! মালদহের মানিকচক কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তির এই পরিসংখ্যানই এখন ভাবাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। আবেদনকারীর সংখ্যা যেখানে আসনের প্রায় তিনগুণ, সেখানে বাস্তবে ভর্তির সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে নানা মত সামনে আসছে।
একাধিক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ, তবুও কম ভর্তি
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ মানিকচক কলেজে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কৃত, শিক্ষা ও সমাজবিজ্ঞান-সহ একাধিক বিষয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পড়াশোনার উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং পরিবেশও রয়েছে।তারপরও আবেদনকারী ও ভর্তি হওয়া পড়ুয়ার সংখ্যার মধ্যে এত বড় ফারাক কেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
৯ হাজার আবেদন থেকে ভর্তি মাত্র ১৪০০
চলতি শিক্ষাবর্ষে কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টালের মাধ্যমে মানিকচক কলেজে প্রায় ৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৪০০ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ ৩৩১৫টি আসনের মধ্যে অর্ধেকও পূরণ হয়নি।কলেজের এই পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পড়ুয়ারা?
স্থানীয়দের একাংশের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, স্নাতক কোর্সের মেয়াদ তিন বছর থেকে চার বছর হওয়া, ভর্তি ও পরীক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং ডিগ্রি অর্জনের পর নিশ্চিত কর্মসংস্থানের অভাব পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর অনেক পড়ুয়া কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছেন বলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
পোর্টালের সমস্যাও কি বড় কারণ?
মানিকচক কলেজের অধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু পড়ুয়াদের অনীহার কারণে হচ্ছে এমনটা নয়। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর প্রযুক্তিগত বা পোর্টাল সংক্রান্ত সমস্যার জেরে আবেদন করেও কিছু পড়ুয়া ভর্তি হতে পারছেন না বলে কলেজের কাছে অভিযোগ এসেছে।বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে কলেজের তরফে এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র
অধ্যক্ষের মতে, পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে উচ্চশিক্ষার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবারের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত উপার্জনের আশায় অনেকেই উচ্চশিক্ষার বদলে কাজের পথ বেছে নেন।
মানিকচক কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক স্তরে ভর্তির ছবিতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ৩৩১৫টি আসনের জন্য প্রায় ৯ হাজার আবেদন জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন মাত্র ১৪০০ জন। কলেজে একাধিক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন পড়ুয়াদের একাংশ ভর্তি হতে আগ্রহী নন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।













