মণিপুরের NH-37-এ কুকি বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন আহত

মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় NH-37-এ কুকি বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা অভিযানের প্রতিবাদে ডাকা মহাসড়ক অবরোধের দ্বিতীয় দিনে ঘটনাটি ঘটে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কুকি সংগঠনগুলি।

কাংপোকপি জেলায় জাতীয় সড়ক-৩৭ (NH-37)-এ কুকি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। কুকি সংগঠনগুলির ডাকা জরুরি মহাসড়ক অবরোধের দ্বিতীয় দিনে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা চলমান নিরাপত্তা অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান মূলত কুকি-জো সম্প্রদায়ের গ্রামগুলিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেয়।

ঘটনাটি মণিপুরের নিউ কেইথেলমানবি এলাকায় ঘটে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইম্ফল-জিরিবাম মহাসড়কের অংশ। এই সড়কটি রাজ্যের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

সোমবার সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী সড়কে জমায়েত হন। তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে নিরাপত্তা অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাদের উদ্বেগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মহাসড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে কথিতভাবে ফাঁকা গুলি ছোড়া, ধোঁয়া বোমা ব্যবহার এবং অন্যান্য দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণ কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় অন্তত তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন এবং তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর কুকি সম্প্রদায়-সম্পৃক্ত সংগঠন Kuki Inpi South West Sadar Hills নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের সমালোচনা করে। সংগঠনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, ফাঁকা গুলি এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করা হয়েছে।

মণিপুরের NH-37-এ কুকি বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন আহত

সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় কঠোর ছিল এবং গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারের লঙ্ঘন করেছে। কুকি নেতাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগ শোনার পরিবর্তে প্রশাসন বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অভিযানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুকি সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন প্রধানত কুকি-জো সম্প্রদায়ের এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত জনসম্মুখ প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমান আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

মণিপুর দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত ও সামাজিক উত্তেজনার মুখোমুখি। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য একাধিকবার সহিংস ঘটনার রূপ নিয়েছে।

কাংপোকপি জেলা বিশেষভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে কুকি সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে একাধিকবার সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে।

কুকি সংগঠনগুলি জানিয়েছে, তাদের দাবির প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হতে পারে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিরাপত্তা অভিযানের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কথিত বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

সংগঠনগুলির বক্তব্য, প্রশাসন অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

জাতীয় সড়ক-৩৭ মণিপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই সড়কের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন পরিচালকেরা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা যায়।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সম্প্রদায়গুলির মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, সংলাপ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণও সমানভাবে প্রয়োজন।

তাদের মতে, স্থানীয় সংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ বজায় থাকলে অনেক বিরোধ প্রাথমিক পর্যায়েই সমাধান করা সম্ভব।

 

Leave a comment