Mini Mathur-Kabir Khan: ‘কবির মুসলিম, তবু বাবা মেনে নিয়েছিলেন’, ভিন্ন ধর্মে বিয়ের নেপথ্যের গল্প শোনালেন মিনি মাথুর

কবির খান মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে মিনি মাথুরের বাবা তাঁদের বিয়ে মেনে নিয়েছিলেন? সন্তানদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা? জানুন বিস্তারিত।

ভিন্ন ধর্মে বিয়ে নিয়ে পরিবার বা সমাজের আপত্তির ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু মিনি মাথুর ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কবির খানের ক্ষেত্রে গল্পটা ছিল কিছুটা আলাদা। ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে ওঠা মিনি যখন কবিরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন, তখন তাঁর বাবা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হলেও পরে নিজেই মেয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নেন। সম্প্রতি নিজের বিয়ে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সন্তানদের পরিচয় নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন মিনি।

‘বাবা খুব রক্ষণশীল ছিলেন, তবু কবিরকে পছন্দ করতেন’

মিনি জানিয়েছেন, তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী মাথুর পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁদের পরিবারে একই জাতের মধ্যে বিয়ের ধারণাই প্রচলিত ছিল। ফলে কবিরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি শুরুতে সহজ ছিল না।তবে কবির নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে আসতেন। তাঁর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং তাঁর বাবার লেখা বই নিয়ে আলোচনা মিনির বাবাকে যথেষ্ট আকৃষ্ট করেছিল। কবিরকে তাঁর কাছে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান বলেই মনে হয়েছিল।

‘ও তো মুসলিম!’—মেয়ের কথায় কী বলেছিলেন বাবা?

মিনির কথায়, একসময় তাঁর বাবা জানতে চেয়েছিলেন তিনি কবিরকে পছন্দ করেন কি না। মিনি তখন বাবাকে জানান, কবির মুসলিম।কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর বাবার মনোভাব বদলে যায়। মিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা তখন কার্যত ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টিকে পিছনে রেখে কবিরের পরিবার সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখান এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান।অর্থাৎ, মেয়ের পছন্দের মানুষটির ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক মূল্যবোধকেই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

বিয়ের পর নিজের নাম বদলাননি মিনি

মিনি জানিয়েছেন, বিয়ের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করেননি। এমনকী পাসপোর্টেও স্বামীর নাম যুক্ত করার প্রয়োজন বোধ করেননি।সন্তানদের নামের ক্ষেত্রেও তিনি এবং কবির আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের সন্তানদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাবার পদবি ব্যবহার না করে দুই পরিবারের পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তাঁরা।মিনি আরও জানিয়েছেন, সন্তানদের সরকারি নথিপত্রে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

ধর্ম নয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গুরুত্ব

নিজের বিশ্বাসের প্রসঙ্গে মিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে বিশেষভাবে ধার্মিক মনে করেন না। তবে ছোটবেলা থেকে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, সেটির সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ রয়েছে।সেই কারণেই করওয়া চৌথ বা হোম-যজ্ঞের মতো কিছু পারিবারিক রীতি পালন করেন তিনি। তাঁর কাছে এগুলি মূলত বাবা-মা ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের অংশ।

‘আমরা ধর্মীয় বিষয় পছন্দ করি না, সাংস্কৃতিক বিষয় পছন্দ করি’

কবিরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মিনি জানিয়েছেন, তাঁদের দাম্পত্যে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মিলন ঘটেছিল। তাঁর কথায়, তাঁরা ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে সাংস্কৃতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেন।কবির ও মিনির দুই সন্তান—মেয়ে সায়রা এবং ছেলে ভিভান। সন্তানদের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় চাপিয়ে দেওয়ার বদলে নিজেদের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

কবির খানের সঙ্গে তাঁর আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে এবার মুখ খুললেন মিনি মাথুর। জানালেন, রক্ষণশীল পরিবারে বড় হলেও কীভাবে তাঁর বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলেন। দুই সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়ের বদলে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

Leave a comment