বাংলার ছেলে থেকে বলিউডের সুপারস্টার—মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনযাত্রার গল্প বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বিপুল সাফল্য অর্জনের পর মুম্বইয়ে তৈরি করেছেন নিজের স্বপ্নের ঠিকানা। মাড আইল্যান্ডে অবস্থিত তাঁর বিশাল বাংলোর নাম ‘মিমোহ’। প্রায় ১.৫ একর জমি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই আবাসনের নকশা এবং অন্দরমহলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বেশ চমকপ্রদ।
প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিশাল আবাসন
মিঠুনের মাড আইল্যান্ডের বাংলোটি প্রায় ১.৫ একর জমির উপর বিস্তৃত। অর্থাৎ, আনুমানিক ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে রয়েছে এই সম্পূর্ণ আবাসন। সবুজে ঘেরা এই বিশাল জায়গাটিকে সাধারণ কোনও তারকার বাড়ির মতো করে তৈরি করা হয়নি। বরং পরিবারের প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত পরিসরের কথা মাথায় রেখে এর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বড় ছেলের নামে বাংলোর নাম ‘মিমোহ’
মিঠুন চক্রবর্তীর বড় ছেলে মিমোহ চক্রবর্তীর নাম থেকেই বাংলোটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মিমোহ’। পুরো কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ হল পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা আলাদা কটেজের ব্যবস্থা। ফলে একই আবাসনে থেকেও প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে।
পরিবারের প্রত্যেকের জন্য আলাদা কটেজ
এই বাড়ির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এর বিশেষ নকশা। একই ছাদের নিচে পরিবারের সবাইকে রাখার পরিবর্তে আলাদা কটেজ তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যাতে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারেন এবং ব্যক্তিগত পরিসর বজায় থাকে, সেই ভাবনা থেকেই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা যায়।মিঠুন এবং তাঁর বাবা মনে করতেন, পরিবারের প্রতিটি সন্তানের নিজস্ব জায়গা ও গোপনীয়তা থাকা প্রয়োজন। সেই ভাবনার প্রতিফলনই দেখা যায় এই বাংলোর নকশায়।
বাড়িতে রয়েছে ২২টি পোষ্য কুকুর
শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, মিঠুনের পোষ্যদের জন্যও এই বিশাল বাড়িতে রয়েছে বিশেষ জায়গা। জানা যায়, বাংলো চত্বরে প্রায় ২২টি পোষ্য কুকুর রয়েছে। ফলে এই আবাসনটি কার্যত মিঠুনের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর পোষ্যদেরও বড় ঠিকানা।
১৯৮৫ সালে কেনা হয়েছিল বাড়িটি
মিঠুনের ছোট ছেলে নমশী চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালে মিমোহের জন্মের সময় তাঁর বাবা-মা এই বাড়িটি কিনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পরিবার উটিতে চলে যায় এবং দীর্ঘদিন সেখানেই বসবাস করে।সেই সময় মাড আইল্যান্ডের বাংলোটি মূলত ছুটি কাটানোর জায়গা হিসেবেই ব্যবহৃত হত। পরে ২০০৭ সালে পরিবার মুম্বইয়ে ফিরে আসার পর এই বাংলোকে স্থায়ী আবাসনে পরিণত করা হয়।
বাড়িতে আজও রয়েছে পুরনো হলুদ Volkswagen Beetle
মিঠুনের সংগ্রামের দিনের একটি বিশেষ স্মৃতিও এই বাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলো চত্বরে রাখা হয়েছে একটি হলুদ Volkswagen Beetle গাড়ি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মুম্বইয়ে আসার প্রথম দিকে যখন থাকার জায়গা ছিল না, তখন মিঠুন নাকি এই গাড়িতেই প্রায় ১৫ দিন কাটিয়েছিলেন।তাই গাড়িটি এখন শুধু একটি পুরনো গাড়ি নয়, বরং অভিনেতার জীবনের কঠিন শুরুর দিনের স্মারক।
সিনেমার কাজের জন্য আলাদা অফিস
বাংলোর একটি কটেজকে অফিসে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা এবং অন্যান্য পেশাগত কাজ হয়। অফিসের দেওয়ালে সাজানো রয়েছে মিঠুনের বিভিন্ন সম্মাননা, পুরস্কার এবং অনুরাগীদের হাতে আঁকা স্কেচ।অন্য একটি দেওয়ালে রয়েছে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি। পাশাপাশি অভিনেতার অর্জন করা তিনটি জাতীয় পুরস্কারও সেখানে প্রদর্শিত রয়েছে।
রয়েছে ইন-হাউস স্টুডিওও
মিঠুনের বাড়ির কাছেই থাকা আরও একটি অংশকে পেশাদার স্টুডিওতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ‘মাইর্নড বাংলো’ নামে পরিচিত এই জায়গাটি মূলত শুটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও জায়গাটি ব্যবহৃত হয়।অর্থাৎ, মিঠুনের এই সম্পূর্ণ আবাসন শুধুমাত্র থাকার জায়গা নয়—পরিবার, পোষ্য, ব্যক্তিগত কাজ এবং বিনোদন জগতের পেশাগত কাজ, সবকিছুর জন্যই এখানে আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।
বলিউডের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বইয়ের মাড আইল্যান্ডের বাংলো যেন শুধুই একটি বাড়ি নয়, বরং আস্ত একটি কমপ্লেক্স। প্রায় দেড় একর জমির উপর তৈরি এই বিশাল বাংলোয় পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা কটেজ। রয়েছে ২২টি পোষ্য কুকুর, ব্যক্তিগত অফিস এবং সিনেমা সংক্রান্ত কাজের জন্য বিশেষ জায়গাও।






