বয়স কিংবা দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা—কোনও কিছুই যেন তাঁর বোলিংয়ের ধার কমাতে পারেনি। বল হাতে মাঠে নামলেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন মহম্মদ শামি। নতুন রনজি মরশুমের প্রথম ম্যাচেই দিল্লির ব্যাটারদের বিরুদ্ধে চার উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য ফের একবার তুলে ধরলেন বাংলার এই অভিজ্ঞ পেসার। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের পরেও কবে ভারতীয় দলে ফিরবেন তিনি, সেই প্রশ্নই এখন ক্রিকেট মহলে বড় হয়ে উঠেছে।
রনজির প্রথম ম্যাচেই শামির আগুনে বোলিং
২০২৬-২৭ মরশুমের রনজি ট্রফিতে বাংলার হয়ে খেলতে নেমেই নজর কাড়লেন মহম্মদ শামি। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে দিল্লির বিরুদ্ধে বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। নিজের সিম ও সুইংয়ের সাহায্যে বিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
ম্যাচে ১৭.৩ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন শামি। তাঁর বোলিংয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ৯টি মেডেন ওভার। যশ ধুলকে আউট করে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। এরপর আয়ুষ দুসেজা, ঋত্বিক শোকিন ও দ্বিজ মেহরাকে ফিরিয়ে দিল্লির ব্যাটিংয়ে ধাক্কা দেন।
৬৫ উইকেটের পরেও কেন আলোচনায় প্রত্যাবর্তন?
গত মরশুমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শামির পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলীপ ট্রফিতে ৭টি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ১৬টি এবং একদিনের ক্রিকেটে ১৫টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে ছিল ৬৫টি উইকেট।
এ ছাড়াও গত মরশুমে সাতটি ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একটি সেমিফাইনালে ৯০ রান দিয়ে আটটি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও ছিল তাঁর। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সের পরেও
জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেতে শামিকে আরও কী করতে হবে?
ভারতীয় দলে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে২০২৫ সালে ভারতের ট্রফি জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরেও জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন শামি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। চোট থেকে ফিরে ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস ও দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।তবে জাতীয় দলে নির্বাচন শুধুমাত্র উইকেটের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। খেলোয়াড়ের ফিটনেস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, দলের ভারসাম্য এবং নির্বাচকদের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে রনজিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করলেও শামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
নতুন মরশুমে কি খুলবে জাতীয় দলের দরজা?
দিল্লির বিরুদ্ধে চার উইকেট নিয়ে শামি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার ক্ষমতা এখনও তাঁর রয়েছে। নতুন মরশুমের শুরুতেই এমন পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।অভিজ্ঞ এই পেসারের সুইং, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, কবে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে তাঁকে।
২০২৬-২৭ মরশুমের রনজি ট্রফিতে দুর্দান্ত বোলিং করে ফের আলোচনায় ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামি। দিল্লির বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে খেলতে নেমে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ৯টি মেডেন ওভার। গত মরশুমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫টি উইকেট নেওয়ার পরেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাননি শামি। নতুন মরশুমের শুরুতেই তাঁর এই পারফরম্যান্স আবারও নির্বাচকদের নজর কাড়ার দাবি জোরালো করল।










