মোকামায় গঙ্গা নদীর উপর ঐতিহাসিক রাজেন্দ্র সেতুর সমান্তরালে নির্মিত নতুন রেল সেতু থেকে ট্রেন চলাচল শুরুর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন সেতুটিকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রি-নন ইন্টারলকিং বা প্রি-NI এবং নন-ইন্টারলকিং বা NI-সংক্রান্ত কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে পূর্ব মধ্য রেলের মহাপরিচালক ডিম্পি গর্গ ২৮ সেপ্টেম্বর মোকামায় পৌঁছে নতুন রেল সেতু এবং সংলগ্ন রেলপথ পরিদর্শন করেন। তিনি আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলির দলের সঙ্গে চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।
রাজেন্দ্র সেতুর সমান্তরালে নির্মিত এই নতুন রেল সেতুটিকে বিহারের রেল নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুরনো রাজেন্দ্র সেতু দীর্ঘদিন ধরে রেল চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ চাপ বহন করে আসছে। নতুন ডাবল লাইন রেল সেতু চালু হলে এই রেলপথের চলাচল ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে ট্রেন চলাচলের জন্য অতিরিক্ত রেল অবকাঠামো পাওয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা ট্রাফিক সামলানো সহজ হতে পারে।
নতুন সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়াই ট্রেন চলাচল শুরু করার জন্য যথেষ্ট নয়। এটিকে বিদ্যমান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা, ট্র্যাক ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সংগঠিত করা, ইয়ার্ডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রি-NI এবং NI কাজ চলছে। এই কাজের সময় রেলের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে একাধিক স্থানে ট্র্যাক সংযোগ, সিগন্যালিং এবং ইয়ার্ড-সংক্রান্ত কাজ করা হয়।
GM ডিম্পি গর্গের পরিদর্শনের সময় গড়হারা এবং দিনকর গ্রাম সিমরিয়ার মধ্যে চলমান কাট-এন্ড-কানেকশন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এর পাশাপাশি লেভেল ক্রসিং নম্বর 2NB-এর কাছে রিলে অপসারণ এবং ইয়ার্ড রিমডেলিং-সংক্রান্ত কাজও পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের সময় দানাপুর ও সোনপুর ডিভিশনের দল এবং বিভিন্ন এজেন্সির আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মহাপরিচালক কাজের অগ্রগতি ও গুণমান পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন সেতুটিকে বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে এর পর নিয়মিত রেল চলাচল শুরু করা যায়। এর জন্য মোকামা এলাকার রাজেন্দ্র সেতু, আপার হাতিদহ জংশন, টাল জংশন, রামপুর ডুমরা এবং দিনকর গ্রাম সিমরিয়ার সঙ্গে যুক্ত রেল অবকাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংযোগ ও পরিবর্তন করা হচ্ছে। দিনকর গ্রাম সিমরিয়া এবং বরৌনি জংশনের মধ্যে মেইন লাইন সংযোগের কাজও এই প্রক্রিয়ার অংশ।
নতুন সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু করার প্রস্তুতির কারণে সেপ্টেম্বর থেকেই এই রেলপথে বড় আকারের ট্রাফিক ব্লক এবং ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রেল ইতিমধ্যেই যাত্রীদের জন্য একাধিক ট্রেন বাতিল, কিছু ট্রেনের রুট পরিবর্তন এবং কিছু ট্রেন আংশিকভাবে বাতিল বা আংশিকভাবে শুরু করার ব্যবস্থা করেছে। এর সরাসরি প্রভাব বিহারের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের উপর পড়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলা প্রি-NI এবং NI কাজের কারণে বিভিন্ন তারিখে বিপুল সংখ্যক ট্রেনের চলাচল প্রভাবিত হয়েছে। রেলের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোকামার নতুন সেতুকে মূল রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলছে। এর আগে প্রকাশিত কর্মসূচিতে শত শত ট্রেন বাতিল, রুট পরিবর্তন অথবা আংশিক চলাচলের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদে নতুন সেতু থেকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রেল চলাচল শুরু করাই এর উদ্দেশ্য।
এই কাজের কারণে বর্তমানে যাত্রীদের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে যাত্রার আগে ট্রেনের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ট্রেনের সময়সূচি ও রুটেও পরিবর্তন করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তারিখের জন্য প্রভাবিত ট্রেনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বরও মোকামা রেল সেতুর প্রি-NI এবং NI কাজের কারণে ৫১টি ট্রেন বাতিল এবং ৩১টি ট্রেনের রুট পরিবর্তনের তথ্য সামনে এসেছিল।
বর্তমান যাত্রী সমস্যার কারণ নতুন রেল অবকাঠামোকে চলাচলের জন্য প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। নতুন সেতু চালু হলে পুরনো ও নতুন সেতুর মাধ্যমে রেল চলাচলে আরও ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তর বিহার, দক্ষিণ বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের দিকে যাতায়াতকারী ট্রেনগুলির জন্য এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মোকামার রেলপথ ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেলপথকে যুক্ত করে। ফলে এখানে অতিরিক্ত রেললাইন চালু হলে চলাচল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে।
নতুন সেতুটি শুধু মোকামা এবং আশপাশের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর প্রভাব বিহারের বড় অংশের রেল সংযোগের উপর পড়তে পারে। মোকামার পথে উত্তর বিহার থেকে পাটনা, কিউল, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের দিকে যাওয়া একাধিক ট্রেন চলাচল করে। একইভাবে দক্ষিণ বিহার এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ট্রেনগুলির জন্যও এই পথ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ডাবল লাইন সেতু চালু হলে রেল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত সক্ষমতা পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো অথবা চলাচল আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
রেলের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হল নতুন সেতুকে মূল নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরাপদভাবে যুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করা। এই ধরনের কাজে ট্র্যাক সংযোগের পাশাপাশি সিগন্যালিং, ইন্টারলকিং, রিলে সিস্টেম এবং ইয়ার্ড ব্যবস্থায় পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই অল্প সময়ের জন্য রেল চলাচল বন্ধ অথবা পরিবর্তন করতে হয়। এই কারণেই রেল পর্যায়ক্রমে প্রি-NI এবং NI কাজ করছে।
নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে মোকামা এলাকার রেলযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আলোচনার বিষয় ছিল। জুন ২০২৬-এও রেলের পক্ষ থেকে নতুন গঙ্গা রেল সেতুটিকে চলাচল শুরুর কাছাকাছি বলে জানানো হয়েছিল এবং চূড়ান্ত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির তথ্য সামনে এসেছিল। এখন সেপ্টেম্বরের শেষে প্রি-NI এবং NI কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছনোর ফলে সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু করার প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
এই প্রকল্পের একটি বড় সুবিধা হতে পারে পুরনো রাজেন্দ্র সেতুর উপর রেল চলাচলের চাপ কমাতে সহায়তা করা। নতুন সেতুটি দুটি রেললাইনসহ নির্মিত হয়েছে। ডাবল লাইন থাকলে দুই দিকের ট্রেন চলাচল আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রকৃত চলাচল ক্ষমতা এবং ট্রেনের সংখ্যায় পরিবর্তন রেলের চলাচল পরিকল্পনা, নিরাপত্তা অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
নতুন সেতু থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করার আগে রেলকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্ধারিত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেতু ও ট্র্যাক-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত কাজ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ইন্টারলকিং সিস্টেম এবং সংযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পরই নিয়মিত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তাই বর্তমানে এটিকে চলাচল শুরুর প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায় বলা যেতে পারে। তবে সেতু থেকে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের সরকারি ঘোষণা এবং সময়সূচির জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হবে।
GM ডিম্পি গর্গের পরিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন বিভাগ ও এজেন্সির মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া। নতুন সেতুকে মূল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার কাজে একাধিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে কোনো একটি অংশে দেরি হলে পুরো প্রকল্পের সময়সীমা প্রভাবিত হতে পারে। এই কারণে রেল আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
মোকামায় চলমান কাজের প্রভাব বর্তমানে যাত্রীদের যাত্রার উপর দেখা যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন নতুন রেল সেতুকে চলাচলের আওতায় আনার প্রক্রিয়ার অংশ। রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের যাত্রার আগে নিজেদের ট্রেনের অবস্থা এবং রুটের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজেন্দ্র সেতুর সমান্তরালে নির্মিত নতুন রেল সেতু বিহারের রেল সংযোগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সেতু চালু হলে মোকামা এলাকায় রেল চলাচলের জন্য অতিরিক্ত সক্ষমতা পাওয়া যাবে এবং উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে ট্রেন চলাচল আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার একটি অতিরিক্ত বিকল্প থাকবে। বর্তমানে রেলের অগ্রাধিকার হল নিরাপত্তা মান বজায় রেখে প্রি-NI এবং NI-সংক্রান্ত সব কাজ সম্পন্ন করা।
GM-এর পরিদর্শনের পর আধিকারিকদের দেওয়া নির্দেশ থেকে বোঝা যায়, রেল নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার উপর জোর দিচ্ছে। গড়হারা থেকে দিনকর গ্রাম সিমরিয়ার মধ্যে সংযোগ, রিলে অপসারণ, ইয়ার্ড রিমডেলিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন সেতুটিকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই নতুন সেতু থেকে ট্রেনের নিয়মিত চলাচলের পথ তৈরি হবে।
এইভাবে মোকামায় রাজেন্দ্র সেতুর সমান্তরালে নির্মিত নতুন রেল সেতুকে ঘিরে অপেক্ষা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রি-NI এবং NI কাজের কারণে যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য ট্রেন বাতিল, রুট পরিবর্তন এবং চলাচলে পরিবর্তনের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এই কাজ শেষ হলে নতুন সেতুর মাধ্যমে রেল চলাচলে অতিরিক্ত সক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেতু থেকে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত তারিখ রেলের নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সরকারি ভাবে স্পষ্ট হবে।









