দেশজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সম্পূর্ণভাবে বিস্তৃত হলেও উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান এবং দিল্লিসহ একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। একাধিক মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে, বিভিন্ন জেলায় স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আবহাওয়া বিভাগ একাধিক রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে।
উত্তরাখণ্ডে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। উত্তরকাশী জেলার স্যানাচট্টির কাছে যমুনোত্রী জাতীয় সড়কে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ও পাথর নেমে আসায় সড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে যমুনোত্রী ধামে যাওয়া বহু তীর্থযাত্রী পথে আটকে পড়েছেন। একই সঙ্গে গঙ্গোত্রী মহাসড়কের একাধিক স্থানে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
পিথোরাগড় জেলায় আদি কৈলাশ সড়কও পাথর ধসে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রশাসন এবং সীমান্ত সড়ক সংস্থা (BRO)-এর দলগুলো ধারাবাহিকভাবে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছে যাতে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরাখণ্ডের একাধিক জেলায় স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশে বৃহস্পতিবার একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুলন্দশহরে একটি পুরোনো দেওয়াল ধসে একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। হারদৌইয়ে নদীর প্রবল স্রোতে দুই বোন ভেসে গেছে। আবহাওয়া বিভাগ রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বহু জেলায় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্থানের ধৌলপুরে টানা বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ি ধসে পড়েছে, যেখানে কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। আজমেরের কিশনগড় এলাকায়ও একটি কাঁচা বাড়ি ধসে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে রেল পরিষেবাও প্রভাবিত হয়েছে। রাজ্যে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে।
![]()
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতেও বৃষ্টির কারণে একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানজট দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্রুত গতিতে সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে। সাধারণত পুরো ভারতে মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়তে প্রায় ৩৮ দিন সময় লাগে, তবে এবার তা প্রায় ৩৬ দিনের মধ্যেই দেশের সব অংশে পৌঁছে গেছে।
তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কিছুটা কমে যেতে পারে। এর একটি বড় কারণ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সুপার টাইফুন "বাভি"-কে ধরা হচ্ছে, যার প্রভাব বঙ্গোপসাগরে নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা গঠনের ওপর পড়তে পারে। নতুন নিম্নচাপ ব্যবস্থা তৈরি না হলে দেশের বহু অঞ্চলে প্রায় এক সপ্তাহ বৃষ্টিপাতের কার্যক্রম দুর্বল থাকতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরাখণ্ড, উত্তর-পূর্ব ভারত, বিহার এবং পূর্ব উত্তর প্রদেশে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ একাধিক রাজ্যে লাল, কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে পার্বত্য রাজ্যগুলোতে ভূমিধস, সমতল এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নদী-নালার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।












