অবশেষে বাংলায় বর্ষার আগমন! উত্তরবঙ্গে ঢুকল মৌসুমি বায়ু, দক্ষিণেও বাড়ছে বৃষ্টির দাপট

উত্তরবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারে বর্ষার প্রভাব শুরু। দক্ষিণবঙ্গেও আগামী ৭ দিন ঝড়বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস। পড়ুন বিস্তারিত।

গরমে হাঁসফাঁস করা বাংলাবাসীর জন্য এল বড় সুখবর। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। নির্ধারিত সময়ের মাত্র একদিন পরে বর্ষার আগমনে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। একইসঙ্গে আগামী সাতদিন রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু বর্ষার যাত্রা

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির অধিকাংশ অংশ এবং দার্জিলিংয়ের কিছু এলাকাও বর্ষার আওতায় এসেছে।শিলিগুড়ির উপর দিয়ে বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা অতিক্রম করছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গের বাকি অংশেও বর্ষার বিস্তার আরও দ্রুত হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

একদিন দেরিতে এল বর্ষা

সাধারণত ৮ জুন উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে। এবার সেই নির্ধারিত সময়ের একদিন পরে অর্থাৎ ৯ জুন বর্ষার আগমন ঘটল। যদিও মৌসুমি বায়ু এ বছর আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে স্বাভাবিক সময়ের আগেই পৌঁছে গিয়েছিল।অন্যদিকে কেরলে বর্ষা প্রবেশে সামান্য দেরি হয়েছিল। ১ জুনের পরিবর্তে ৪ জুন ভারতের মূল ভূখণ্ডে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটে। এরপর ধাপে ধাপে উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হয়েছে বর্ষা।

উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

বর্ষার প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েকদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার-সহ বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দক্ষিণবঙ্গেও বাড়বে ঝড়বৃষ্টির দাপট

শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, দক্ষিণবঙ্গেও আগামী সাতদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখীর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি ছিল। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা

বুধবার পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আঘাত হানতে পারে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।তাই কৃষক, মৎস্যজীবী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির অনুকূল পরিস্থিতি

বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এছাড়া পূর্ব বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।আবহাওয়া দফতরের অনুমান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ অংশেও মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করবে।

প্রতীক্ষার অবসান। উত্তরবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বর্ষার প্রভাব পুরোপুরি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়বে। ফলে দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার আশা জোরদার হয়েছে।

Leave a comment