সরকারি প্রকল্পের টাকা সাধারণত পাওয়ার আশাতেই অপেক্ষা করেন উপভোক্তারা। কিন্তু মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দার ঘটনা একেবারেই উল্টো। অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তেই তিনি টাকা নিজের কাছে না রেখে সোজা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কেন তাঁর অ্যাকাউন্টে এই টাকা এল, তা জানতে এবং টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের BDO অফিসে যোগাযোগ করেছেন তিনি।
পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা!
ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের খড়কাঠি এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা সামজাদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই গত ১৭ অগাস্ট হঠাৎ করে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা জমা পড়ে।অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা জমা পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
টাকা পেয়েও নিজের কাছে রাখতে চাননি সামজাদ
অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি জানতে পারেন সামজাদ শেখের পরিবারের সদস্যরা। এরপর বিষয়টি যাচাই করে তিনি বুঝতে পারেন, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য তিনি নিজে কোনও আবেদন করেননি।তাঁর বক্তব্য, তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ছাড়া অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা আসার কথা নয়। তাই ভুল করে জমা পড়া ৩,০০০ টাকা নিজের কাছে না রেখে প্রশাসনের মাধ্যমে ফেরত দিতে উদ্যোগী হন তিনি।
‘আমি তো পুরুষ মানুষ, আবেদনই করিনি’
সামজাদ শেখ জানিয়েছেন, ১৭ অগাস্ট তাঁর পুত্রবধূ তাঁকে জানান যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা এসেছে। বিষয়টি জানার পর তিনি অবাক হয়ে যান।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি পুরুষ এবং অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদনও করেননি। তাই কীভাবে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে এল, তা তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়। বিষয়টি জানার পরই তিনি প্রশাসনের কাছে গিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা জানান।
পরিবারের তরফেও উঠেছে প্রশ্ন
সামজাদ শেখের জামাই টুটুল শেখের দাবি, তাঁর শ্বশুর অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য কখনও আবেদন করেননি এবং এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যও নন।তিনি আরও জানিয়েছেন, সামজাদ শেখ প্রতিবন্ধী ভাতা পান। পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে লিঙ্ক থাকলেও সেই সূত্রে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তাঁর শ্বশুরের অ্যাকাউন্টে আসার কথা নয় বলে পরিবারের দাবি।
BDO অফিসে গিয়ে শুরু টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া
ঘটনার পর সামজাদ শেখের পরিবার রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের BDO অফিসে যোগাযোগ করে। জানা গিয়েছে, সরকারি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ট্রেজারি চালানের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।পরিবারের তরফে এই ঘটনাকে প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবে দেখার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে সামজাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রশাসনের নজরে গোটা ঘটনা
রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের BDO শুভময় মাঝি জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আগেও উঠেছিল সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে মুর্শিদাবাদে পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মহিলা-কেন্দ্রিক সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢোকার অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।তবে সামজাদ শেখের ঘটনাটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে কারণ টাকা পাওয়ার পর তিনি তা নিজের কাছে রেখে না দিয়ে নিজেই প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই তাঁর এই পদক্ষেপের প্রশংসাও করছেন অনেকে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার কিস্তি ঘিরে মুর্শিদাবাদে সামনে এল চমকপ্রদ ঘটনা। রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়েছে বলে অভিযোগ। টাকা ঢোকার খবর জানতে পেরে নিজেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন সামজাদ শেখ। তিনি জানিয়েছেন, এই টাকার জন্য তিনি আবেদন করেননি এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর এই সুবিধা পাওয়ার কথাও নয়। তাই টাকা ফেরত দিতে চান তিনি।













