দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান! ফের খুলছে মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক লন্ডন মিশন হাসপাতাল, দুর্গাপুজোর আগেই মিলতে পারে পরিষেবা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু হতে চলেছে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের ঐতিহাসিক লন্ডন মিশন হাসপাতাল। প্রথম পর্যায়ে ১০০ শয্যার মাতৃ ও শিশু বিভাগ চালুর পরিকল্পনা, দুর্গাপুজোর আগেই পরিষেবা শুরুর লক্ষ্য।

মুর্শিদাবাদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জিয়াগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লন্ডন মিশন হাসপাতাল ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শন করে সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। হাসপাতাল চালু হলে জিয়াগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জোরকদমে শুরু সংস্কারের কাজ

দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকা হাসপাতাল ভবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জঙ্গল সাফাই, রং করা এবং পরিকাঠামো সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সন্দ্বীপ সান্যালকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের ভিতরে থাকা মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগেই চালুর লক্ষ্য

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন সাপেক্ষে দুর্গাপুজোর আগেই হাসপাতালটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে চালু হবে—

১০০ শয্যার হাসপাতাল

মাতৃ ও শিশু বিভাগ

প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা

পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য বিভাগও চালু করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে

জিয়াগঞ্জের এই হাসপাতাল পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের সময় দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতাল পুনরুজ্জীবনের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে জিয়াগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের বহু এলাকার মানুষ চিকিৎসার জন্য নতুন ভরসা পাবেন।

১৮৯৪ সালের ঐতিহ্য বহন করছে হাসপাতাল

লন্ডন মিশনের উদ্যোগে ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই হাসপাতাল।

প্রায় ১৪ একর (প্রায় ৪২ বিঘা) জমির উপর গড়ে ওঠা এই চিকিৎসাকেন্দ্রে একসময় লন্ডন থেকে আসা চিকিৎসকেরা পরিষেবা দিতেন। দীর্ঘদিন ধরে মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল ছিলেন।

কেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল?

বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কারণে হাসপাতালটির পরিষেবা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৬ সালে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার উদ্যোগে একবার পুনরায় চালু করা হয়।

আধুনিক এক্স-রে মেশিন-সহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও আনা হয়েছিল।

তবে ২০১৬-১৭ সালের পর আবার পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

কোভিডে ব্যবহৃত হলেও পরে আবার পরিত্যক্ত

কোভিড মহামারির সময় অস্থায়ীভাবে হাসপাতালটি কোভিড চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও পরে ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

এবার নতুন উদ্যোগে হাসপাতালটির পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

বহু বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে চালু হতে চলেছে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের ঐতিহাসিক লন্ডন মিশন হাসপাতাল। ইতিমধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০ শয্যার মাতৃ ও শিশু বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য প্রশাসনের।

Leave a comment