সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নতুন নয়। তবে এবার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সরাসরি অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের বিশেষ অভিযানে সামনে এসেছে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ। প্রশাসনের দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে স্বচ্ছ রাখতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে।
হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্র, পুলিশের নজরে আসছিল অভিযোগ
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অসাধু চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠছিল। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং চত্বরে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে একাধিক তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছনোর পরই তদন্ত শুরু হয়।শনিবার সকালে বহরমপুর থানার পুলিশ পরিকল্পিতভাবে হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১১ জন সন্দেহভাজন দালালকে আটক করে গ্রেফতার করা হয়।
রোগী ভর্তি থেকে রক্তের ব্যবস্থা, সব ক্ষেত্রেই টাকা আদায়ের অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা রোগীদের বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করছিল। হাসপাতালে দ্রুত ভর্তি, শয্যার ব্যবস্থা, ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত সংগ্রহ, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।শুধু তাই নয়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা কিছু রোগীকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বাড়ছে নজরদারি
স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র নির্মূল করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার কোনও অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি
রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও সরকারি হাসপাতালের উপর নজরদারি চালানোর জন্য একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। হাসপাতাল সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
আদালতে পেশ ধৃতরা, তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা
অভিযানে ধৃতদের অধিকাংশই বহরমপুর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এর সঙ্গে আরও বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত থাকতে পারে।ধৃতদের আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করল বহরমপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, রোগী ভর্তি, বেড, রক্ত ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল এই চক্র। ঘটনায় হাসপাতাল নিরাপত্তা ও রোগী পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।










