মুজাফফরপুরে এআই (AI) ব্যবহার করে এক নারী চিকিৎসকের আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ; বিয়ের পর সেই ছবি তাঁর স্বামীকে পাঠানোর দাবি।

মুজফ্ফরপুরে এক মহিলা চিকিৎসক তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে এআই ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি, বিয়ে আটকানোর হুমকি এবং ছবিগুলি পাত্রপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণ ও অভিযুক্তের ভূমিকা তদন্ত করছে।
মুজাফফরপুরে এআই (AI) ব্যবহার করে এক নারী চিকিৎসকের আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ; বিয়ের পর সেই ছবি তাঁর স্বামীকে পাঠানোর দাবি।
Photo Credit / Attribution: Google

মুজফ্ফরপুরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগে একটি মামলা সামনে এসেছে। এক মহিলা চিকিৎসক তাঁর এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি এআই ব্যবহার করে তাঁর অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করেছেন।

মহিলা চিকিৎসকের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর অভিযুক্ত তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, কোনওভাবেই বিয়ে হতে দেবেন না। পরিবার বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য কথাবার্তাও বলেছিল। সেই সময় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে মনে হলেও পরে আবার সমস্যা শুরু হয় বলে অভিযোগ।

মহিলা চিকিৎসকের বিয়ে হয় ২১ জুন ২০২৬। অভিযোগ, বিয়ের পর অভিযুক্ত ফের তাঁকে হয়রানি শুরু করেন এবং এবার এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবিকে আপত্তিকরভাবে তৈরি করেন। এরপর ওই ছবিগুলি তাঁর স্বামী এবং অন্যদের কাছে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।

মহিলা চিকিৎসকের দাবি, এই ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর বৈবাহিক জীবন এবং সামাজিক মর্যাদার ক্ষতি করা। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে বিয়ে হয়ে গেলেও তিনি তাঁর সংসার করতে দেবেন না। এরপর আপত্তিকর ছবি সামনে আসা এবং সেগুলি পাত্রপক্ষের কাছে পাঠানোর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, মহিলা চিকিৎসক এবং অভিযুক্ত আগে থেকেই একে অপরকে চিনতেন এবং তাঁদের মধ্যে সম্পর্কও ছিল। মহিলা চিকিৎসকের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ বাড়ে এবং অভিযুক্ত বিয়েতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগের সঙ্গে কথিতভাবে ডিজিটাল প্রমাণও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ছবিগুলি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, কোন ডিভাইস বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেগুলি কাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

কথিত বার্তা, ছবি, মোবাইল নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক রেকর্ড তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। পুলিশ ছবিগুলি প্রথমে কাকে পাঠানো হয়েছিল এবং এরপর কীভাবে সেগুলির প্রচার হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখতে পারে।

অভিযুক্ত এবং মহিলা চিকিৎসকের মধ্যে আগের কথোপকথনও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিয়ে আটকানো বা বিয়ের পর সংসার করতে না দেওয়ার মতো হুমকি দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বার্তা বা কল রেকর্ড ঘটনার পটভূমি বুঝতে সহায়তা করতে পারে।

পুলিশ এই বিষয়টিও তদন্ত করতে পারে যে আপত্তিকর ছবিগুলি তৈরি করতে কোন এআই প্রযুক্তি বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়েছিল। ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ছবির উৎস এবং তাতে কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হতে পারে।

ছবিগুলি সত্যিই এআই বা অন্য কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। এর জন্য প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ছবিকে জাল বলে নিশ্চিত করা যায় না; ডিজিটাল তদন্ত এবং পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।

মহিলা চিকিৎসকের অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বিয়ে ঠিক হওয়ার সময়। পরিবারের হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিয়ের পর আবার বিরোধ বাড়ে বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তের উদ্দেশ্য শুধু বিয়ে আটকানো ছিল, নাকি বিয়ের পরও মহিলা চিকিৎসককে হয়রানি করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পারে।

তদন্তের সময় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মহিলা চিকিৎসকের কোন কোন ছবি তাঁর কাছে ছিল এবং সেগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। অন্য কোনও ব্যক্তি ছবি সরবরাহ, তৈরি বা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্ত থাকলে তাঁর ভূমিকারও তদন্ত হতে পারে।

মহিলা চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তিরও ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, পরিচিতজন, পরিবার বা কর্মস্থলে কোনও ব্যক্তির জাল ছবি বা ভুল তথ্য পৌঁছে গেলে তাঁর পেশাগত জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে।

এআই দিয়ে তৈরি জাল ছবি ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখানো, বদনাম করা বা ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল উপাদান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একবার কোনও ডিজিটাল সামগ্রী অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তার প্রচার বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।

এই ঘটনায় কথিত ছবি ও বার্তার রেকর্ড তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ কোন ডিভাইস থেকে সামগ্রী তৈরি হয়েছে এবং কোন ইন্টারনেট সংযোগ বা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছে, তা পরীক্ষা করতে পারে। প্রযুক্তিগত তদন্তে সময় লাগতে পারে।

মহিলা চিকিৎসকের অভিযোগে বিয়ের আগে হুমকি এবং বিয়ের পরে এআই ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি পাঠানোর বিষয় উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধের দিক থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মুজফ্ফরপুরে এআই-নির্মিত আপত্তিকর ছবির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল ও হয়রানির অন্যান্য ঘটনাও সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশের সামনে এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পাশাপাশি ডিজিটাল সামগ্রীর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। মামলায় কোন ধারায় এবং কীভাবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে, তা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

মহিলা চিকিৎসকের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়। তাই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে পুলিশি তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

Leave a comment