নবদ্বীপে ভ্রমণে এলে ক্ষীর দই না খেয়ে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ। আত্মীয়স্বজনের জন্য হাঁড়িভর্তি দই নিয়ে যাওয়ার চল বহুদিনের। কিন্তু জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভেজালও। তাই নবদ্বীপের দই কিনতে গেলে কীভাবে বুঝবেন আসল আর নকলের ফারাক—জেনে নেওয়া জরুরি।
নবদ্বীপের ক্ষীর দই কেন এত বিখ্যাত
দীর্ঘদিন ধরে নবদ্বীপের ক্ষীর দই তার স্বাদ, ঘনত্ব ও প্রাকৃতিক রঙের জন্য পরিচিত। ধীরে ধীরে জ্বাল দেওয়া দুধ, সনাতনী পদ্ধতিতে হাঁড়িতে দই বসানো—এই ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়াই একে আলাদা করে তুলেছে। আজ সেই খ্যাতি পৌঁছেছে কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিনরাজ্য এমনকি বিদেশেও।

জনপ্রিয়তার আড়ালে ভেজালের ফাঁদ
নবদ্বীপের বাইরে বহু জায়গায় ‘নবদ্বীপের দই’ নাম দিয়ে বিক্রি হচ্ছে অন্য এলাকার সাধারণ দই। প্রকৃত দই পাইকারি হিসেবে নিয়ে গিয়ে বিক্রি হলে সমস্যা নেই, কিন্তু অভিযোগ উঠছে—কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম রং মিশিয়ে দইকে ক্ষীর দই বলে চালানো হচ্ছে।
আসল ক্ষীর দই চেনার রঙের ট্রিক
অভিজ্ঞ দই প্রস্তুতকারকদের মতে, আসল নবদ্বীপের ক্ষীর দইয়ের রঙ হালকা লালচে বা ক্যারামেল শেডের হয়। এই রং আসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুধ জ্বাল দেওয়ার ফলে—এতে কোনও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না। অতিরিক্ত উজ্জ্বল লালচে রং দেখলেই সাবধান হওয়া দরকার।

কীভাবে তৈরি হয় নবদ্বীপের ক্ষীর দই
প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞ দই প্রস্তুতকারক বিপ্লব দাস জানান,
দুধ ৭–৮ ঘণ্টা ধরে ধীরে জ্বাল দেওয়া হয়
তারপর সেই দুধ হাঁড়িতে ঢেলে উনুনের তাপে প্রায় দু’দিন রেখে দেওয়া হয়
চিনি ছাড়া অন্য কোনও মিষ্টিকারক ব্যবহার করা হয় না
এই দীর্ঘ প্রক্রিয়াই ক্ষীর দইয়ের স্বাদ ও ঘনত্বের আসল রহস্য।

স্বাদেই মিলবে আসল পরিচয়
নবদ্বীপের ক্ষীর দই অতিরিক্ত মিষ্টি নয়, বরং মোলায়েম ও ভারসাম্যপূর্ণ। একবার আসল দই খেলে নকল দইয়ের কৃত্রিম স্বাদ সহজেই ধরা পড়ে—এমনটাই বলছেন স্থানীয় বিক্রেতারা।

নবদ্বীপের ক্ষীর দই এখন বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়। কিন্তু নামের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বাজারে ছড়াচ্ছে ভুয়ো দইও। আসল নবদ্বীপের ক্ষীর দই চেনার সহজ কৌশল জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ দই প্রস্তুতকারকেরা।













