শুটিং সেটে ভয়ংকর ঝগড়া! নানা পাটেকরের কুর্তা ছিঁড়ে দিয়েছিলেন বিধু বিনোদ চোপড়া, ‘পরিন্দা’ ছবির নেপথ্যে কী ঘটেছিল?

‘পরিন্দা’ ছবির শুটিংয়ে নানা পাটেকর ও বিধু বিনোদ চোপড়ার তুমুল বিবাদ কেন হয়েছিল? কুর্তা ছেঁড়ার ঘটনা এবং ছবির নেপথ্যকাহিনি জানুন।

বলিউডের ছবির পর্দায় যে দৃশ্য দর্শককে কাঁদায়, তার নেপথ্যে কখনও কখনও থাকে অভিনেতার ব্যক্তিগত আবেগ, আবার কখনও থাকে শুটিং সেটের তিক্ত অভিজ্ঞতা। নানা পাটেকর অভিনীত ‘পরিন্দা’ ছবির একটি দৃশ্য ঘিরে এমনই এক ঘটনা বহুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার সঙ্গে অভিনেতার বিবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ছিঁড়ে গিয়েছিল নানার কুর্তা। কিন্তু কী কারণে শুরু হয়েছিল এই ঝামেলা? আর কীভাবেই বা সেই ঘটনা ছবির অভিনয়ে প্রভাব ফেলেছিল?

‘পরিন্দা’ ছবিতে অসাধারণ অভিনয়, নেপথ্যে ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতা

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পরিন্দা’ নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান।তবে ছবির সাফল্যের নেপথ্যে শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা সব সময় সুখকর ছিল না। নানা পাটেকর চরিত্রের আবেগ ও পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে দিতে চাইতেন। অন্যদিকে, পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার কাজের ধরন নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। এই পার্থক্য থেকেই দু’জনের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত তৈরি হয়েছিল বলে তাঁদের পরবর্তী বক্তব্যে উঠে এসেছে।

কেন পরিচালকের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন নানা পাটেকর?

এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, বিধু বিনোদ চোপড়ার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে খুব একটা সুখকর ছিল না। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন অভিনেতা।নানার অভিযোগ ছিল, শটের আগে পরিচালক অত্যন্ত জোরে ‘অ্যাকশন’ বলতেন। তাঁর মতে, কোনও দৃশ্যে অভিনয় করার আগে চরিত্রের আবহ তৈরি করা জরুরি। সেই প্রস্তুতির মুহূর্তে হঠাৎ জোরে নির্দেশ দিলে অভিনয়ের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে।এই বিষয়টি নিয়েই তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে নানা সেই সময়ের অভিজ্ঞতাকে খারাপ স্মৃতি হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।

খাবার নিয়েও হয়েছিল কথা কাটাকাটি

বিধু বিনোদ চোপড়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পরিন্দা’ তৈরির সময় বাজেট ছিল সীমিত। তাই অভিনেতাদের নিজেদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল।একদিন নানা পাটেকর খাবার না নিয়ে সেটে পৌঁছন এবং দুপুরের খাবার চান। এই বিষয়টি ঘিরেও পরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয় বলে বিধু পরে জানিয়েছিলেন।যদিও খাবার নিয়ে এই বিবাদই তাঁদের সম্পর্কের একমাত্র সমস্যা ছিল না। শুটিংয়ের সময়, কাজের চাপ এবং দু’জনের ব্যক্তিত্বের সংঘাতও পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছিল।

ক্লান্তির জেরে বড়সড় ঝামেলা, ছিঁড়ে গেল নানার কুর্তা

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ছবির একটি আবেগঘন দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়। সেই দৃশ্যে নানার চরিত্রের স্ত্রীর মৃত্যুর পরের পরিস্থিতি তুলে ধরার কথা ছিল।সারাদিন শুটিং করার পর সন্ধ্যার দিকে নানা পাটেকর জানান, তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত এবং বাড়ি ফিরে যেতে চান। তখন পরিচালক তাঁকে বলেন, শুটিং অসমাপ্ত রেখে চলে গেলে অতিরিক্ত খরচের দায় তাঁকেই নিতে হবে।এরপরই দু’জনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বিধু বিনোদ চোপড়ার পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ী, কথাকাটাকাটি গালাগালিতে পৌঁছয় এবং পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়েও গড়ায়। সেই সময়ই পরিচালক নানার কুর্তা ছিঁড়ে দেন বলে জানা যায়।

বাস্তব আবেগেই কি আরও জীবন্ত হয়েছিল ছবির দৃশ্য?

ঘটনাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক এখানেই। কুর্তা ছিঁড়ে যাওয়ার পর সেই দৃশ্যে নানা পাটেকরকে গেঞ্জি পরে অভিনয় করতে হয়েছিল। বিধু বিনোদ চোপড়ার দাবি ছিল, তার কিছুক্ষণ আগেই দু’জনের মধ্যে তীব্র ঝামেলা হওয়ায় নানার আবেগ ছিল অত্যন্ত বাস্তব।দৃশ্যটিতে চোখের জল ও মানসিক যন্ত্রণা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছিল বলে পরিচালকের বক্তব্য। অর্থাৎ, শুটিং সেটের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনিচ্ছাকৃতভাবে অভিনয়ের আবেগকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।তবে এই ঘটনার পর দু’জনের মধ্যে মিটমাট হয়েছিল বলেও জানা যায়। নানা নাকি পরে পরিচালককে জানিয়েছিলেন, ওই দৃশ্যটি নিয়ে তিনিও নার্ভাস ছিলেন।

২০২৩ সালে পুরনো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন বিধু বিনোদ চোপড়া

২০২৩ সালে একটি রিয়্যালিটি শোয়ে বিধু বিনোদ চোপড়া নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁকেও পাল্টা গালাগালি করতে শুরু করতে হয়েছিল। নিজের স্বভাবেও পরিবর্তন এসেছিল বলে দাবি করেছিলেন পরিচালক।এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ‘পরিন্দা’র শুটিংয়ের সময় তাঁদের সম্পর্ক কতটা জটিল হয়ে উঠেছিল। ছবিটি প্রশংসা ও পুরস্কার পেলেও তার নেপথ্যের এই সংঘাত দু’জনের কর্মজীবনের আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

‘পরিন্দা’র পর আর একসঙ্গে কাজ করেননি তাঁরা

‘পরিন্দা’র পর নানা পাটেকর ও বিধু বিনোদ চোপড়াকে আর কোনও ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়নি। তাঁদের মধ্যে কী ধরনের পেশাগত সম্পর্ক ছিল, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা হয়েছে।ছবির শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে অভিনয়ের জগতে শিল্পীর প্রস্তুতি ও পরিচালকের কাজের পদ্ধতির মধ্যে ভারসাম্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পর্দায় অসাধারণ অভিনয় তৈরি হলেও তার নেপথ্যের অভিজ্ঞতা যে সব সময় মসৃণ হয় না, ‘পরিন্দা’র এই কাহিনি তারই উদাহরণ।

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পরিন্দা’ ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকর ও পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়ার মধ্যে তীব্র বিবাদ হয়েছিল। খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে শুটিংয়ের সময় ও খরচ নিয়ে মতবিরোধ—একাধিক ঘটনায় তাঁদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় ঝগড়া এতটাই বেড়ে যায় যে বিধু বিনোদ চোপড়া নানার কুর্তা ছিঁড়ে দেন বলে পরে দাবি করেছিলেন পরিচালক। আশ্চর্যের বিষয়, সেই ঘটনার পরের আবেগই ছবির একটি দৃশ্যকে আরও বাস্তব করে তুলেছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

Leave a comment